গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার প্রস্তাব ও পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবসহ আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবে এই নিন্দা জানানো হয়েছে।
গত রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিবৃতিতে বলেন, "এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য এবং প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মানবিক আইনসহ আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালার চরম লঙ্ঘন। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য অধিকারের জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ।" যেকোনো অজুহাতে ফিলিস্তিনিদের অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভেতরে বা বাইরে বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো চেষ্টা বা পরিকল্পনাকে তারা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান।
আট দেশের মন্ত্রীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির এই আহ্বানকে যদি আনুষ্ঠানিক নীতি বা বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করা হয়, তবে তার আঞ্চলিক পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করবে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা সংঘাত অবসানের জন্য ঘোষিত ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনাও রয়েছে, যা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, গাজা অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পূর্ব জেরুজালেমসহ গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অখণ্ডতা বজায় রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রীরা। তারা ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের প্রতি পুনরায় তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। দীর্ঘস্থায়ী ও ন্যায়সংগত শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ এটিই বলে তারা মনে করেন।
এছাড়া, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন কোনো জনসংখ্যাগত বা ভৌগোলিক বাস্তবতা তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের তাদের নিজেদের ভূমিতে টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার খর্ব করার যেকোনো চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেন।



























