জাপানের চন্দ্রমল্লিকা সিংহাসনের (ক্রিসেন্থেমাম থ্রোন) ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকারী প্রিন্স হিসাহিতো রবিবার ২০ বছরে পদার্পণ করেছেন। তবে তার এই বিশেষ জন্মদিনটি এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির রাজকীয় উত্তরাধিকার আইন সংস্কার নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা তুঙ্গে উঠেছে। কেবল পুরুষদেরই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী করার সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যৎ সম্রাট হিসেবে হিসাহিতোর ওপর এখন সবার নজর বাড়ছে।
সম্রাট নারুহিতোর ভাতিজা হিসাহিতো বর্তমানে জাপানের ১,৫০০ বছরের প্রাচীন সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী। দ্রুত সংকুচিত ও বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া ১৬ সদস্যের জাপানি রাজপরিবারের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে তরুণ সদস্য। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্ট ইম্পেরিয়াল হাউস ল বা রাজকীয় গৃহ আইন সংশোধন করেছে, যা জাপানিদের বড় একটি অংশের কাছে বেশ অজনপ্রিয়।
গত জুলাই মাসে পাস হওয়া সংশোধিত এই আইনে অত্যন্ত দূরবর্তী সাবেক রাজপরিবার থেকে পুরুষ সন্তান দত্তক নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ কোনো নাগরিককে বিয়ে করার পরও নারী সদস্যরা তাদের রাজকীয় মর্যাদা বজায় রাখতে পারবেন এবং অফিশিয়াল দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে তাদের স্বামী বা সন্তানরা রাজপরিবারের সদস্য হতে পারবেন না। এই পরিবর্তনকে সেকেলে ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক হিসেবে সমালোচনা করেছেন বিশ্লেষকরা। অনেকেই এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সমর্থনপুষ্ট এই আইন মূলত রাজকুমারী আইকোকে সিংহাসনে আরোহণ থেকে বঞ্চিত করার এবং সমাজে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও নারী বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখার একটি প্রচেষ্টা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ার জন্য প্রিন্স হিসাহিতো এবং তার হবু স্ত্রীর ওপর ভবিষ্যতে প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হবে। শৈশবে পোকামাকড়, বিশেষ করে ফড়িং এবং পশুপাখি ভালোবাসতেন হিসাহিতো। তিনি বর্তমানে টোকিওর কাছে সুকুবা বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই তাকে সাইকেল চালাতে বা পোকামাকড় ধরার জাল হাতে দেখা যায়।
পড়াশোনার পাশাপাশি হিসাহিতো ইতিমধ্যে কিছু অফিশিয়াল দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। গত মে মাসে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সম্মানে আয়োজিত রাজকীয় ভোজসভায় তিনি অংশ নেন। এছাড়া আগস্ট মাসে হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমার আঘাতে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কিশোর ক্যাম্পে যোগ দেন। গত বছর নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ ও বিয়ে নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হিসাহিতো জানান, আপাতত পড়াশোনাই তার মূল লক্ষ্য। ভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে এবং নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ভবিষ্যতে বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার। বিয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, "বিয়ে নিয়ে আমি এখনও কোনো আদর্শ সময় বা জীবনসঙ্গীর কথা ভাবিনি।"



























