ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী তায়েজ ও আল-হুদায়দা গভর্নরেটে হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বড় ধরনের সামরিক অভিযানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখল করেছে। ইয়েমেনি আর্মড ফোর্সেস মিডিয়া সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে হুথিদের ২০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে।
সরকারি বাহিনী বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বড় আকারের সামরিক তৎপরতা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের হারানো অবস্থানগুলো পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি নতুন উচ্চভূমি দখল করেছে এবং হুথিদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রবিবার আল-বারহ ফ্রন্টে তিন দিক থেকে সেনাবাহিনী আক্রমণ পরিচালনা করে। এর ফলে তায়েজের পশ্চিমে আল-কাধা এলাকার দখল নিতে সক্ষম হয় বাহিনীটি এবং আল-হুদায়দার দক্ষিণে নতুন অবস্থানগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করে।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তায়েজের পশ্চিমে আল-ধাবাব ফ্রন্টেও হুথিদের একটি অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে। এই তীব্র লড়াইয়ের ফলে হুথিদের সামরিক সরঞ্জামের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেনাবাহিনী।
স্থল অভিযানের পাশাপাশি ইয়েমেনি যুদ্ধবিমানগুলো আল-বারহ, দক্ষিণ আল-হুদায়দা এবং মারিব প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অবস্থানে সমন্বিত বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আল-লাবানাত, আল-আলম এবং আল-জাউফ গভর্নরেটে হুথিদের সমাবেশ ও প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় তাদের ব্যাপক প্রাণহানি ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা এবং দেশের বড় একটি অংশ দখল করে নেওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে প্রায় ১২ বছর ধরে যুদ্ধ চলছে। তবে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কমে এসেছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ইসরায়েল ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক এই নতুন সংঘাত ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।




























