মিয়ানমারের সামরিক সমর্থিত সরকারের প্রধান ও প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং তার সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার এক ভাষণ দিয়েছেন। রাজধানী নেপিদোর পার্লামেন্টে ৯০০ জনেরও বেশি আইনপ্রণেতা, কর্মকর্তা ও সামরিক প্রতিনিধিদের সামনে দেওয়া এই ভাষণে তিনি তার প্রশাসনের পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তুলে ধরেন। ২০২১ সালে বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রশাসন বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে দাবি করেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করেছে। আগামী দুই বছর তিনি একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের গতি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা নিয়েছেন এবং এরপর তিন বছর পূর্ণ উদ্যমে দেশ পুনর্গঠনের কাজ চালাবেন। এছাড়া, গত বছর সশস্ত্র সংঘাতের কারণে যে ১০২টি টাউনশিপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি, সেখানে ২০২৭ সালে বিশেষ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর বাধ্যতামূলক কনস্ক্রিপশন আইন বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন মিন অং হ্লাইং। তিনি দাবি করেন, সরকার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে এবং ইতিমধ্যে ১৩টি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা হয়েছে। তবে একই সাথে তিনি আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্য ছাড়াই আসিয়ান এই পরিকল্পনা চাপিয়ে দিয়েছে এবং আঞ্চলিক জোটটি মিয়ানমারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে তিনি ১০টি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান, যার মধ্যে বিতর্কিত মাইটসোনে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটিও রয়েছে। পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রতিবাদের মুখে এক দশকেরও বেশি সময় আগে এই প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজও চলমান থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া মানি লন্ডারিং, মাদক পাচার ও অনলাইন স্ক্যাম সেন্টার দমনের দাবি করে তিনি জানান, স্ক্যামের সাথে জড়িত ৭২ হাজারেরও বেশি বিদেশিকে ৫৮টি দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক তরুণদের চলে যাওয়ার বিষয়টি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে বলে স্বীকার করলেও, এর পেছনে সামরিক বাহিনীর কনস্ক্রিপশন আইনের ভূমিকার কথা তিনি এড়িয়ে গেছেন। এদিকে, জেনারেল স্ট্রাইক কোঅর্ডিনেশন বডির মুখপাত্র নান লিন এই ভাষণের সমালোচনা করে বলেন, এটি সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আঁকড়ে থাকারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, জুন্টার ব্যর্থ নীতিতে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং কনস্ক্রিপশন আইনের মাধ্যমে তারা তরুণদের ভয়ের মধ্যে রাখতে চায়।































