বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা একাত্তরকে ভুলে যেতে চায় বা সচেতনভাবে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনোই বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বাস করতে হলে একাত্তরকে অবশ্যই সামনে রাখতে হবে এবং সেই চেতনার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত এই প্রতিনিধি সম্মেলনে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতারা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানকে পেছনে ফেলে দেওয়া নয়। তিনি বলেন, আমরা জুলাই মাসকেও অস্বীকার করতে পারি না, কারণ বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অসংখ্য সন্তান প্রাণ দিয়েছেন এবং একটি ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছেন। বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের চেতনা—কোনোটিকেই ছোট করে দেখে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আমরা কোনোভাবেই উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। বরং একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সনাতন সম্প্রদায়ের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিএনপি ও ভবিষ্যৎ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


























