কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে ইটবোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর পড়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বাল্কহেডটিতে থাকা চালক, সুকানি, সহকারী এবং ১৭ জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বেঁচে গেছেন। তবে তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন, নগদ টাকা, পোশাকের ব্যাগ ও ঘুমানোর চাদরসহ বিভিন্ন সামগ্রী বাল্কহেড থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী জানান, ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে ৪০ হাজার ইট নিয়ে ৫০ হাজার টাকা ভাড়ায় তারা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে সেতুটি ভেঙে তাদের বাল্কহেডের ওপর আছড়ে পড়ে। তিনি জানান, ২৫ লাখ টাকা দিয়ে কেনা বাল্কহেডটির ওপর সেতু ভেঙে পড়ায় তার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একজন শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, সহায়-সম্বল হারিয়ে তিনি রাত থেকে না খেয়ে আছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়ার ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিনের বর্ষা ও বৃষ্টিতে বেইলি সেতুর পাটাতনগুলোতে মরিচা ধরে সেগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা কার্যালয় থেকে পাটাতন মেরামতের কাজ চলছিল। কিন্তু প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় মেরামতকারী শ্রমিকেরা ভুলবশত সেতুর সংযোগস্থলের নাট খুলে ফেলেন, যার ফলে সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই মেরামতকারী শ্রমিকেরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন।
এই দুর্ঘটনার ফলে সড়কটিতে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর ফলে দাউদকান্দি ছাড়াও চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর উপজেলার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এলজিইডির দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।



























