ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার সীমানার বেশ গভীরে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় রাশিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটি এবং একটি বড় তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার (৩৭৩ মাইল) দূরে সারাতোভ অঞ্চলে অবস্থিত এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি এবং তেল শোধনাগার উভয়ই আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এছাড়া কালুগা অঞ্চলের একটি তেল ডিপো এবং ব্রায়ানস্কে একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের এই হামলায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন এবং তারা ৬৩৫টি ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সারাতোভ ও এঙ্গেলস এলাকায় বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দুজন, উদমুর্তিয়া অঞ্চলে বেসামরিক গাড়িতে ড্রোন হামলায় তিনজন এবং ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে আরও তিনজন মারা গেছেন বলে জানা গেছে। সারাতোভের আঞ্চলিক গভর্নর রোমান বুসারগিন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এঙ্গেলস বিমানঘাঁটিতে হামলার ফলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই ঘাঁটিটি রাশিয়ার কৌশলগত বিমানবাহিনীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর জন্য রুশ বাহিনী নিয়মিত এই ঘাঁটি থেকে টিইউ-৯৫এমসি এবং টিইউ-১৬০ বোমারু বিমান ব্যবহার করে আসছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এঙ্গেলস বিমানঘাঁটি এবং সারাতোভ তেল শোধনাগারকে রাশিয়ার "কৌশলগত স্থাপনা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হামলার আওতায় এসেছে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন রিটেইলার 'ওয়াইল্ডবেরিজ'-এর একটি গুদামও। সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ এই গুদামে হামলার ঘটনাকে ইউক্রেনের "সন্ত্রাসবাদী কাজ" বলে অভিহিত করেছেন, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াইল্ডবেরিজের বেশ কয়েকটি লজিস্টিক হাবকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তাদের দাবি, এই প্রতিষ্ঠানটি রুশ সামরিক বাহিনীকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ, নেভিগেশন সরঞ্জাম এবং অন্যান্য গিয়ার সরবরাহ করে থাকে। ওয়াইল্ডবেরিজ—যাকে প্রায়শই রাশিয়ার আমাজন হিসেবে বর্ণনা করা হয়—সেখানে প্রায় ৪৮,০০০ কর্মী কর্মরত রয়েছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা রুশ অর্থনীতিতে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। মস্কো জানিয়েছে, তারা কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের দুটি বন্দর এবং দুটি জাহাজে রাতভর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের কাছে একটি ডাক টার্মিনালে রুশ হামলায় একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেন।
ইউক্রেনের বৃহত্তম অনলাইন রিটেইলার 'রোজেটকা' জানিয়েছে, তাদের সবচেয়ে বড় গুদামটিতেও রুশ ড্রোন আঘাত হেনেছে, তবে এতে কেউ আহত হননি। সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের ডাক সেবা প্রতিষ্ঠান 'নোভা পোশতা' এবং রোজেটকার মতো বড় বাণিজ্যিক গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এই যুদ্ধ চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই বড় শহর, জ্বালানি কেন্দ্র এবং গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা তীব্র করেছে, যদিও যুদ্ধক্ষেত্রের বিশাল ফ্রন্টলাইন প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তি আলোচনায় কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।































