যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিলের ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা না করার সিদ্ধান্ত জানানোর পর প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৪ ডলারেরও বেশি কমে গেছে। দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর শর্তে তেহরানের ওপর এই হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় মাত্রার সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনকে এই হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়। তারা জানায়, একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক রূপরেখা নিয়ে ইতিমধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটবে। হামলা বাতিলের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, "বিশ্বের কল্যাণ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি, তবে শর্ত হলো দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে হবে।"
এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধস নামে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪.০৮ ডলার বা ৪.৬৪ শতাংশ কমে ৮৩.৮৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৪.০১ ডলার বা ৪.৭৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০.৬৬ ডলারে দাঁড়ায়。
এর আগে গত মাসে ওয়াশিংটন যখন ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলা শুরু করে এবং ওমান উপকূলের কাছে তেহরানের বাহিনী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়, তখন বিশ্ববাজারে উভয় ধরনের তেলের দাম ২০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।































