মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা সোমবার থেকে শুরু হবে। রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তিনি দেশটিতে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করেছেন। তিনি বলেন, 'তারা হামলার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিল কারণ তারা এটি তৈরি হতে দেখেছিল। এখন আমরা আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলছি। আগামীকাল (সোমবার) বিকেল থেকে এটি শুরু হবে।'
ইরান অবশ্য ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি কাছাকাছি, যদিও বাস্তবে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো মার্কিন মিত্ররা তাকে সপ্তাহান্তে কোনো সামরিক হামলা না চালানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪.৫ শতাংশ কমে ৮৩.৯৮ ডলারে এবং মার্কিন ট্রেড করা তেলের দাম ৪.৬ শতাংশ কমে ৮০.৭৪ ডলারে নেমে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার জেরে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, তেহরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার কোনো অনুরোধ করেনি এবং ট্রাম্পের এই দাবি 'নতুন মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়'। তবে সোমবারের আলোচনার সম্ভাব্য স্থান বা কারা এতে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোনো স্পষ্ট তথ্য দেননি।
ট্রাম্প দাবি করেন, তার পরিকল্পিত হামলাটি হতো 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় আক্রমণ', যা যুদ্ধের আলোচনার সম্ভাবনাকে চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারত। তবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো জবাব দেননি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন যে, এমন পদক্ষেপ যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা জানিয়েছেন, তেহরান তাদের প্রতিপক্ষদের যেকোনো হুমকিকে 'বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য' বলে মনে করে। তিনি আরও বলেন, 'আমরা অপ্রস্তুত হব না এবং নিষ্ক্রিয়ও থাকব না।'
এর আগে শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র 'পুরোপুরি প্রস্তুত' এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন সামরিক শক্তি ও আতঙ্ক আগে দেখা যায়নি। তবে তিনি পরে দাবি করেন, আক্রমণ বাতিল করা হয়েছে বিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং একটি সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে। এর আগে ৭ এপ্রিলও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান শান্তি আলোচনায় না বসলে 'পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে'। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা মূলত উপেক্ষা করে আসছে।





























