২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাড়ে পনেরো বছরের শাসনের অবসান ঘটে। সেই সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা জনসমক্ষে বক্তব্য দিতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ভারতের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নয়াদিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সন্ধ্যায় তিনি তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রোডম্যাপ ও দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে এই ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
শেখ হাসিনার এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ঘোষণায় ঢাকা ইতিমধ্যে দিল্লির কাছে নিজেদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যক্তি রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জাতীয় অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর মতে, ভারত সরকার হাসিনাকে এভাবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিলে তা হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত আসামি হিসেবে এবং গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে যাওয়া হাসিনার বক্তব্য প্রচারের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হিসেবে গণ্য হবে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে প্রায় ২৪০০ মানুষ নিহত ও কয়েক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই গণহত্যার মুখে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির বক্তব্য দেওয়ার ঔদ্ধত্য নিন্দাজনক।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে। এতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং সাকিব আল হাসানের মতো ব্যক্তিদেরও আলোচক হিসেবে থাকার কথা রয়েছে। ওয়ায়েল আউয়াদের সভাপতিত্বে এই সভা বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলোতে এটি সরাসরি সম্প্রচার করার কথাও বলা হয়েছে। এর আগে রয়টার্স ও কিয়োডো নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী সে দেশে বসে রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন কি না, সে বিষয়ে ভারত সরকারকেই অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিবাচক ধারায় এমন কোনো কর্মকাণ্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম। তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যের জায়গাটি ঠিক আছে, যা দুই দেশের মানুষের রুটি-রুজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


























