অস্ট্রিয়ার জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জিওস্ফিয়ার অস্ট্রিয়া জানিয়েছে, দেশটিতে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ভিয়েনার স্ট্যামারসডর্ফে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার দিনের শুরুর দিকে তাপমাত্রা ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল। এর মাধ্যমে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট ব্যাড ডয়েচ-অল্টেনবার্গে রেকর্ড করা ৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আগের রেকর্ডটি ভেঙে গেল।
চলমান এই তীব্র দাবদাহ এবং স্বল্প বৃষ্টিপাতের কারণে অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এ বছর অস্ট্রিয়ায় জুলাই মাস ছিল ইতিহাসের চতুর্থ উষ্ণতম মাস এবং কিছু আবহাওয়া কেন্দ্রে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
তীব্র দাবদাহের ফলে কৃষিখাতও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে এ বছর এপ্রিকট ফল ১৯৬১-১৯৯১ সালের গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ দিন আগেই পেকে গেছে। কৃষিমন্ত্রী নরবার্ট টচনিগ সতর্ক করে বলেছেন, খরায় চারণভূমি শুকিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সরবরাহ করা কৃষকদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজধানী ভিয়েনার ৬০ বছর বয়সী রেস্তোরাঁ মালিক নাসির দিস এএফপিকে জানান, তীব্র গরমের কারণে মানুষজন বাইরে বের হতে চাচ্ছে না, যার ফলে তার রেস্তোরাঁয় গ্রাহক সংখ্যা খুবই কম। তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সবাই এই গরম শেষ হওয়ার অপেক্ষায় আছে, কেউ কিছু খেতে বা পান করতে আগ্রহী নয়।
শুধু অস্ট্রিয়া নয়, প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়াতেও একই অবস্থা দেখা গেছে। দেশটির আবহাওয়া সেবার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় তাপমাত্রা ৪০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের রেকর্ড ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু সংকটের কারণে ইউরোপজুড়ে খরা তীব্রতর হয়েছে এবং চরম দাবদাহের ফলে এই শুষ্ক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।






























