থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিবর্ষণে অন্তত ছয়জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলে হামলার আগে ওই কিশোর বাড়িতে তার দাদা-দাদিকে হত্যা করে। শুক্রবার নন্থাবুরি প্রদেশের দেবসিরিন নন্থাবুরি স্কুলে এই ঘটনা ঘটে।
রয়্যাল থাই পুলিশের মুখপাত্র ত্রাইরং পিউপান জানান, হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সূত্রের তথ্যে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে। ত্রাইরং একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, হামলায় তিন শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন এবং আরও ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি প্রথমে জানিয়েছিলেন যে বন্দুকধারী গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পোলাপি সুউঞ্চউই পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জানান, স্কুলে পাঁচজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই কিশোর বন্দুকধারীও মারা গেছে।
দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাত্তানা প্রমফাত জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ২২ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি উল্লেখ করেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজন তাড়াহুড়ো করে পালাতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন, তাই ঠিক কতজন সরাসরি গুলির আঘাতে আহত হয়েছেন তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত কিশোরটি তার দাদার লাইসেন্সকৃত বন্দুক দিয়ে অন্তত ২৬ রাউন্ড গুলি চালায়। আটকের সময় তার কাছে আরও ৩৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। পুলিশ মুখপাত্র ত্রাইরং জানান, এই নৃশংস হামলার নেপথ্যে কী কারণ ছিল তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারী কিশোরটি তার দাদা-দাদির সঙ্গেই বসবাস করত বলে জানা গেছে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানায়, অন্য একটি ভবন থেকে গুলির শব্দ শোনার পর তারা একটি শ্রেণীকক্ষের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ এসে দরজা নক করে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঘটনার পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
থাইল্যান্ডে স্কুলে এ ধরনের সহিংসতা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোর পুলিশের কাছ থেকে বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে একটি পাবলিক হাই স্কুলে গুলি চালায়। দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই জিম্মি দশার ঘটনায় একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছিলেন।






























