আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসলে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি উপসাগরীয় দেশগুলোকে এই বার্তা দিয়েছে যে, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা মূলত অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গারিবাবাদি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি প্রস্তাবিত বৈঠকের মাধ্যমে এই অঞ্চলের নেতারা ইতিমধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরুর রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। শান্তি ফিরে এলে এই উদ্যোগ আবারও সচল করা সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা এমন একটি বিষয় যা অঞ্চলের ভেতর থেকেই তৈরি করতে হবে এবং সব আঞ্চলিক দেশেরই এতে অংশ নেওয়া উচিত।
উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান যোগাযোগের ভিত্তিতে ইরানের মূল্যায়ন তুলে ধরে এই কূটনীতিক বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো বুঝতে পেরেছে যে সংঘাতের যেকোনো বিস্তার বা দীর্ঘসূত্রতা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। এই উপলব্ধির কারণেই আঞ্চলিক নেতারা সামরিক অভিযান বন্ধ এবং পুনরায় আলোচনা শুরুর প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছেন।
তবে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু উপসাগরীয় দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলা '৪০ দিনের যুদ্ধ' চলাকালে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে পরিচালিত বিমান উড্ডয়ন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের তথ্য ইরান নথিবদ্ধ করেছে এবং সেই প্রমাণ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জমা দিয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে যে মার্কিন বাহিনী ছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলো সরাসরি 'দুটি বা তিনটি' হামলা চালিয়েছিল, যার জবাবে ইরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায়। গারিবাবাদি স্বীকার করেন যে এই সংঘাত ইরানের সঙ্গে কিছু উপসাগরীয় রাষ্ট্রের বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি করেছে, তবে তেহরান এখন দেখতে পাচ্ছে যে আঞ্চলিক সরকারগুলো তাদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারগুলো পুনর্মূল্যায়ন করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সমন্বিত হামলা চালালে আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। জবাবে ইরানও এই অঞ্চলে ইসরায়েলি ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। পরবর্তীতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়, যার মাধ্যমে সক্রিয় বৈরিতা শেষ হয় এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হয়। তবে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে বিরোধের জেরে পরবর্তীতে সেই আলোচনা থমকে যায়।


























