বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ রাতারাতি তৈরি হবে না, তবে উন্নতির রূপরেখা স্পষ্ট। প্রথমত, ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেটের ধরনে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেট তৈরির পাশাপাশি ব্যাটারদের নিয়মিত অন্তত ১৩৫ কিলোমিটার গতির বলের মুখোমুখি হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
দ্বিতীয়ত, বিদেশ সফরের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরও পেশাদার হতে হবে। মাত্র দুই-তিনদিনের আনুষ্ঠানিক ক্যাম্প দিয়ে অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সফরের অন্তত কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্যে পৌঁছে অনুশীলন ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানের পেসার তৈরির কোনো বিকল্প নেই। কেবল তাসকিন আহমেদ বা নাহিদ রানার ওপর নির্ভর করে টেস্টের বোলিং আক্রমণ সাজানো ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় একসঙ্গে অন্তত চার-পাঁচজন মানসম্পন্ন পেসার গড়ে তুলতে হবে।
চতুর্থত, ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দক্ষতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বিদেশের মাটিতে রান করার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতা ও কৌশল শেখা জরুরি। বল ছেড়ে দেওয়া, শরীরের কাছে বল সামলানো এবং নতুন বলের প্রথম স্পেল সামাল দেওয়ার মতো বিষয়গুলো প্রশিক্ষণের মূল কেন্দ্রে রাখতে হবে।
সবশেষে, বিদেশ সফরকে কেবল পর্যটন হিসেবে না দেখে একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সংশ্লিষ্টরা এই উপায়গুলো সম্পর্কে অবগত থাকলেও, তা বাস্তবায়নের মানসিকতাই আসল চ্যালেঞ্জ। জানার চেয়ে সেগুলোকে মেনে চলাই এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: Daily Amar Desh































