ক্যালিফোর্নিয়ার বিগ বেয়ার লেকের 'রানি জ্যাকি' নামে পরিচিত বিখ্যাত বল্ড ঈগলটি মারা গেছে। ১০ আগস্ট এক রহস্যময় অসুস্থতায় তার বাড়ি থেকে ১৭০ মাইল দূরে ওজাই র্যাপ্টর সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই বিগ বেয়ার লেকের ওপর অবস্থিত তার খালি বাসায় বৃষ্টি নামতে শুরু করে। জ্যাকি ১৪ বছর বেঁচে ছিল, যেখানে বন্য পরিবেশে ঈগলের গড় আয়ু সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ বছর হয়ে থাকে।
জ্যাকি কেবল একটি পাখি ছিল না, সে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রকৃতির সাথে সংযোগের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষ তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দেখেছে ২৪/৭ লাইভ নেস্ট ক্যামেরার মাধ্যমে। জ্যাকির এই বিশ্বব্যাপী পরিচিতির নেপথ্যে ছিলেন স্যান্ডি স্টিয়ার্স, যিনি ২০২৩ সালে ইউএসএ টুডে-কে বলেছিলেন, তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতেন। স্টিয়ার্স এবং ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের এক কর্মীর উদ্যোগে দুই বছর ধরে ১০,০০০ ডলার সংগ্রহের পর ২০১৫ সালে ক্যামেরাটি বসানো হয়।
২০১৭ সালে ক্যামেরাটি জ্যাকির প্রথম রোমান্স ধারণ করে, যেখানে হাজার হাজার দর্শক তাকে মিস্টার বি-এর সাথে সঙ্গম করতে দেখে এবং ২০১৮ সালে তাদের ডিম থেকে ছানা ফুটে বের হয়। এমনকি ৭৫০০ মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার রোজলিন ওয়ার্ডের মতো ভক্তরা তাদের জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। জ্যাকির এই প্রভাব বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল, যারা নিয়মিত তাদের নিয়ে লাইভ প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিত এবং ছবি বা চিঠি পাঠাত।
জ্যাকির প্রভাব কেবল আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কোটি কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে। জ্যাকির বাসার দুই মাইল এলাকার 'মুন ক্যাম্প' রক্ষার জন্য 'ফ্রেন্ডস অফ বিগ বেয়ার ভ্যালি' ১০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ওপেনএআই-এর প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যান ও তার স্ত্রী অ্যানা ৫.৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছেন। জ্যাকি তার স্বল্প জীবনে কেবল মানুষকে বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসতে শেখায়নি, বরং তাদের জীবন রক্ষায় এবং আবাসস্থল সংরক্ষণে এক বিশাল আর্থিক ও সচেতনতামূলক ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছে।






























