ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানলের ভয়াবহতা শনিবার নাগাদ কিছুটা কমে এলেও এর মূল কেন্দ্র এখন গ্রিসে স্থানান্তরিত হয়েছে। তীব্র বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গ্রিসের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে শত শত মানুষকে সমুদ্রপথে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক বিমানগুলোকেও দমকা বাতাসের কারণে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গ্রিসের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে অ্যাথেন্সের কাছে মাতি উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল এই শতাব্দীর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দাবানল। শুক্রবার প্রতিবেশী উপকূলীয় গ্রাম আজিওস ভাসিলিওসের কাছে নতুন করে আগুন লাগে। স্থানীয় বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী কৃষক মিনা জর্টজানিস বলেন, একটি আদি অরণ্য ও স্বর্গীয় স্থান আগুনের গ্রাসে হারিয়ে গেল।
ন্যাশনাল অবজারভেটরি অফ অ্যাথেন্সের দাবানল বিশেষজ্ঞ থিওডোর জিয়ানারোস জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা এই আগুনের কবলে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৯টি জলবাহী বিমান ও ১১টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ফ্রান্স ও রোমানিয়া থেকে বিশেষ দলগুলোও উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে। নাফপাকটোসের পূর্ব দিকেও নতুন আগুন দেখা দেওয়ায় অন্তত চারটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ইভানজেলোস টুরনাস জানান, প্রচণ্ড বাতাসের কারণে বিমান দিয়ে পানি ছিটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জিরোন্ডে অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। জিরোন্ডে এলাকায় ৪২০ বর্গকিলোমিটার পাইন বন পুড়ে ছাই হয়েছে। যদিও আগুন পুরোপুরি নিভে যায়নি, তবে তা সীমানার ভেতরেই রয়েছে। ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে এখনো কিছু এলাকা খালি রাখা হয়েছে।
ফ্রান্সের ভার অঞ্চলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ দমকলকর্মী কাজ করছেন। সেখানে গ্রোস বেসিলন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, তবে শুক্রবারে ঝোড়ো বাতাসের কারণে তা আবার কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই এলাকায় এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ বাড়ি ফিরতে পারছেন না। লে পরজ এলাকায় ম্যাথিউ প্লেসিস নামের এক বাসিন্দা তার সাত প্রজন্মের পুরোনো বসতভিটা হারিয়েছেন। তিনি বলেন, সবকিছু এখন অচেনা মনে হচ্ছে, কী ছিল আর কী হয়েছে তা বোঝার উপায় নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে ইউরোপ বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়নশীল মহাদেশ হিসেবে চিহ্নিত। চরম তাপমাত্রা ও দীর্ঘস্থায়ী খরা গাছপালা ও বনভূমিকে শুষ্ক করে তুলছে, যা দাবানলকে আরও তীব্র ও দ্রুততর করছে।


























