দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে আগেভাগে নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ৪১টি দেশের একটি জোট। জেনেভায় নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ আঞ্চলিক শান্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
জোটের দেশগুলো ‘দ্য হেগ কোড অব কন্ডাক্ট এগেইনস্ট ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রলিফারেশন’ (HCOC)-এর অধীনে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, পর্যাপ্ত তথ্য ও সতর্কতা ছাড়া পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি বাড়ায়, যা বিশেষ করে উৎক্ষেপণ এলাকার কাছাকাছি থাকা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
জোটের পক্ষ থেকে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশযান উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আগাম নোটিশে ক্ষেপণাস্ত্রের শ্রেণি, উৎক্ষেপণের সময়সীমা, এলাকা এবং পরিকল্পিত গতিপথের বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে। এছাড়া, কাছাকাছি থাকা জাহাজ ও উড়োজাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে জোটটি।
সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রেক্ষিতেই এমন দাবি সামনে এলো। উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীন একটি পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় কয়েকটি দেশকে নোটিশ দিয়েছিল। জোটের দাবি, এ ধরনের মানসম্মত নোটিশ প্রক্রিয়া কোনো দেশের সামরিক উন্নয়ন বা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে।
তবে চীনের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত লি চিজিয়াং এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, বেইজিংয়ের বৈধ প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, চীন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে আগাম নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি অনুসরণ করে আসছে এবং এই প্রচেষ্টাকে ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের অধীনে আনা উচিত নয়।
এই ৪১টি দেশের জোটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউক্রেনসহ আরও কয়েকটি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।





























