অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অব্যাহত সহিংসতার ঘটনায় তেল আবিবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তীব্র ক্ষুব্ধ বার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সমকক্ষদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ইসরায়েলে কি কোনো ‘অরাজকতা’ চলছে? ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বন্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কেন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়েও কঠিন প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন।
এমন এক সময়ে এই খবর সামনে এল, যখন ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘বি’সেলেম’ (B’Tselem) অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নাবলুসের কুসরা শহরে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করছে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। অতি সম্প্রতি কুসরার উপকণ্ঠে দুটি ফিলিস্তিনি বাড়ির আঙিনায় অবৈধ চৌকি স্থাপন করেছে তারা। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোকে তাড়িয়ে বাড়িগুলো দখল করা। কিন্তু ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই দখলদারদের উচ্ছেদ করতে বা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
বি’সেলেমের নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক অভিযোগ করে বলেন, কুসরার এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মদদে বসতি স্থাপনকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে হামলা জোরদার করেছে, জমি দখল করছে এবং পরিবারগুলোকে বাস্তুচ্যুত করছে। তিনি বলেন, “সবার চোখের সামনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের জাতিগত নিধন ত্বরান্বিত ও প্রসারিত হচ্ছে।”
সংস্থাটি আরও জানায়, গত মাসে নিকটবর্তী জালুদ গ্রামে ক্রমাগত আক্রমণ ও অবরুদ্ধ করে রাখার পর তুবাসি পরিবারকে তাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিতে দখলদারদের সহায়তা করেছিল ইসরায়েলি বাহিনী। আইন সিনিয়া, তুরমুসায়া, বেইতা এবং আবু ফালাহসহ বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি এলাকায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। বি’সেলেমের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল ৬৪টি ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ এবং আরও ১৫টি সম্প্রদায়ের আংশিক বাস্তুচ্যুত করেছে, যার ফলে ৪,৮০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২,৩০০-এরও বেশি শিশু রয়েছে। এছাড়া কুসরায় ফিলিস্তিনিদের বাড়ির পাশে দখলদার ও ইসরায়েলি সেনাদের প্রার্থনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
কুসরার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ইউসুফ আবদেল-সালাম আনাদোলু বার্তা সংস্থাকে জানান, অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা তাঁবু খাটিয়ে রাস্তা অবরোধ করায় তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবার টানা তিন দিন ধরে নিজেদের ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। বুধবার প্রায় ২০০ জন বসতি স্থাপনকারী বাড়িগুলোর চারপাশে জড়ো হয়ে পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়, যা বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, তাঁর চার সদস্যের পরিবারসহ তাঁর ভাই, বাবা-মা ও আরেক আত্মীয়ের পরিবার তিন দিন ধরে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়াই ঘরের ভেতর আটকা পড়ে আছেন।
আবদেল-সালাম আরও জানান, ইসরায়েলি বাহিনী রাতে একটি তাঁবু ভেঙে দিলেও বসতি স্থাপনকারীরা পুনরায় এসে পাথর দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তারা মূলত ফিলিস্তিনিদের তাড়িয়ে বাড়িগুলো দখল করতে চায়। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সহায়-সম্পত্তির ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে এই সহিংসতার মাত্রা আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।






























