যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার আসন্ন সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই মহড়ার নাম দেওয়া হয়েছে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই মহড়া বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র শুক্রবার কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) মাধ্যমে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা একটি পারমাণবিক জোটে রূপ নিচ্ছে। এর জবাবে পিয়ংইয়ং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন মাত্রার হুমকির বিপরীতে নতুন মাত্রার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, বর্তমান মহড়াটি গত পাঁচ বছরের মহড়াগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। আধুনিক যুদ্ধের নতুন দিকগুলো আয়ত্ত করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা কমিয়ে আনছে, যা বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সৈন্য এবং দেশটিতে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ হাজার ৫০০ সদস্যের বিশাল বাহিনী অংশ নেবে। মহড়াটিতে ড্রোন মোকাবিলা, জিপিএস জ্যামিং এবং সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে উত্তর কোরিয়ার ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার সৈন্য মোতায়েনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পিয়ংইয়ং আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এই যুদ্ধে হাজার হাজার উত্তর কোরীয় সৈন্য নিহত হয়েছে, তবে এর বিনিময়ে দেশটি অস্ত্র, জ্বালানি ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে এবং যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কম্বাইন্ড ফোর্সেস কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়ার সেনাদের নতুন হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তারা সেখানে যা শিখেছে তা কোরিয় উপদ্বীপে নিয়ে এসেছে এবং আমাদের প্রশিক্ষণ সেই হুমকি বিবেচনায় রেখেই সাজানো হয়েছে।”
ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে, ঠিক তখনই এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে পিয়ংইয়ং উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর আগে বুধবার উত্তর কোরিয়া তার পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা গত ছয় দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা।
সূত্র: আল জাজিরা






























