মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার গাজা উপত্যকায় মার্কিন সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হামাসের সঙ্গে বিরল এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পের জামাতা কুশনার গত রবিবার মিশরে হামাসের নতুন নেতা খলিল আল-হায়্যার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এই আলোচনা করেন।
গত মাসে ট্রাম্পের 'বোর্ড অফ পিস' গাজায় হামাস এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর 'পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের' বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তবে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ট্রাম্পের ১৫ দফা এই শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। এই পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং নতুন ফিলিস্তিনি বেসামরিক প্রশাসনের অধীনে গাজা পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার আটটি মুসলিম দেশ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
কুশনারের সঙ্গে আল-হায়্যার এই বৈঠকটি গত বছর গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এই পর্যায়ের প্রথম আলোচনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা গেছে, শান্তি প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বোর্ড অফ পিস-এর দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। শান্তি আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম।
একই দিনে কুশনার মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে কুশনার, ম্লাদেনভ ও ব্লেয়ার সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। গত সপ্তাহে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হামাস প্রকৃত অর্থে নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।
গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়, যেখানে প্রায় ১,২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩,০০০-এর বেশি, যার পরিসংখ্যান জাতিসংঘের কাছে গ্রহণযোগ্য। জাতিসংঘের তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার ৯০ শতাংশ বা প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।






























