মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকের প্রত্যাশা ব্যক্ত করার কয়েক ঘণ্টা পরই উত্তর কোরিয়া একাধিক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সিউলের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পিয়ংইয়ং এলাকা থেকে প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, কিম জং উনের সঙ্গে তার অত্যন্ত সুসম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের বার্ষিক এই সামরিক মহড়াগুলো উত্তরের জন্য একটি অনুচিত ও বৈরী সংকেত হিসেবে কাজ করছিল। এছাড়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা না পাওয়াকেও এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে ৫৭টি অত্যন্ত শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। তবে সিউলের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের তথ্যের সঙ্গে এই অমিলের কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তারা।
কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বুধবার জানিয়েছেন যে, তার ভাই ট্রাম্পের প্রতি ভালো স্মৃতি ও অনুভূতি পোষণ করেন এবং দুই নেতার মধ্যকার সম্পর্ক এখনও চমৎকার। তবে দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে কোনো যোগাযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর প্রতিশ্রুতি আদায় করতে ব্যর্থ হন।
এদিকে, মার্কিন পক্ষের পরামর্শে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের 'উলচি ফ্রিডম শিল্ড' মহড়া নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ আগেই শুক্রবার শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, মহড়া সীমিত করা হলেও এতে মার্কিন প্রশিক্ষণের লক্ষ্যমাত্রায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধের পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সুরক্ষায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, সিউল উত্তর কোরিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধী। প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক সমর্থন দেবেন, যদিও তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন।































