দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
আজ দুপুর দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনে এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল পাঁচটায় শেষ হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সিইসি জানান, সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ভোট গণনা শুরু করেছেন এবং গণনা শেষে দ্রুত ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোটের শুরু থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় সংসদ কক্ষে নিজের আসনে বসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তাঁর পাশের আসনে বসা ছিলেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশে আরও ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আসনে বসে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও খোঁজ-খবর নেন। এরপর বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করে নিজের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় তিনি মির্জা ফখরুলকে সঙ্গে নিয়ে যান। মির্জা ফখরুল নিজে সংসদ সদস্য হওয়ায় ভোট দিতে পেরেছেন, তবে অলি আহমদ সংসদ সদস্য না থাকায় ভোট দিতে পারেননি এবং সংসদ কক্ষেও উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন মির্জা ফখরুলের সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে।
নির্বাচনে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। তাঁরা ভোট দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন। মির্জা ফখরুল ভোট দেওয়ার পর বিরোধী দলের সদস্যদের আসনে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরবর্তীতে একে একে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যরা ভোট দেন, যার মধ্যে ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেন। এছাড়াও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিপুণ রায় চৌধুরী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আমানউল্লাহ আমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন। সংসদের ঠিক মাঝখানে রাখা ব্যালট বাক্সে তারা ভোট জমা দেন। ভোট দেওয়ার পর সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলান ও দেখা করেন।
এদিকে এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। দলটির মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জুলাই সনদের ঐকমত্যের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন দলটি এই নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোট দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে সাংবিধানিক নিয়মে প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই প্রার্থী থাকায় এই গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সূচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো।
সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় ভোটগ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের এই বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়, যেখানে সভাপতিত্ব ও নির্বাচন পরিচালনা করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট শুরুর আগে সিইসি নিয়মকানুন বুঝিয়ে দিয়ে বলেন, সংসদ সদস্যরা নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালটের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট সংগ্রহ করতে হবে এবং পরে মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে তা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা করবেন সিইসি।.রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ২৪৭ বনাম ৯০, তবু হিসাব ভোটের বাইরেই.সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন।
ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।.রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: বিএনপির নিশ্চিত জয়ের ভোটে কর্নেল অলি প্রার্থী যে কারণে.নির্বাচনে প্রার্থী দুজন।





























