ভিয়েতনাম সরকার দেশটির দণ্ডবিধি বা পেনাল কোডের ব্যাপক সংস্কারের অংশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পরিধি আরও কমিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। হ্যানয়ের বা দিন স্কয়ারে অবস্থিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গতকাল এই খসড়া সংশোধনীটি পেশ করা হয়। প্রস্তাবিত এই সংস্কার অনুযায়ী, আরও ছয়টি অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদক চোরাচালান, নাবালিকা ধর্ষণ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ।
প্রস্তাবটি যদি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অনুমোদিত হয়, তবে মৃত্যুদণ্ড কেবল চারটি অপরাধের ক্ষেত্রে কার্যকর থাকবে—রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং অবৈধ মাদক উৎপাদন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এই সংশোধনীর ওপর বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে এবং অক্টোবরে চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ করা হতে পারে।
এর আগে গত বছর ভিয়েতনাম সরকার আটটি অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছিল। এর মধ্যে ছিল অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ গ্রহণ, গুপ্তচরবৃত্তি, অবৈধ মাদক পরিবহন, রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংস এবং সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে সংঘটিত অপরাধ। এই পরিবর্তনের ফলে ১২ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিয়েল এস্টেট টাইকুন ট্রুং মাই লানের জীবন রক্ষা পায়। বর্তমানে এই অপরাধগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
গত চার দশক ধরে ভিয়েতনামের সরকার ধাপে ধাপে মৃত্যুদণ্ডের পরিধি কমিয়ে আনছে। তুওই ত্রে পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের দণ্ডবিধিতে ৪৪টি অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল। ১৯৯৯ সালে তা কমিয়ে ২৯টি, ২০০৯ সালে ২২টি, ২০১৫ সালে ১৮টি এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ জুলাই কার্যকর হওয়া বর্তমান আইনে তা ১০টিতে নামিয়ে আনা হয়।
বিচারমন্ত্রী নগুয়েন হাই নিনের মতে, মৃত্যুদণ্ড কমানোর এই সিদ্ধান্ত অপরাধের প্রকৃতি, গুরুত্ব এবং ক্ষতির মাত্রা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। এই আইনি সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো দণ্ডবিধিকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।
একই সময়ে সরকার রাষ্ট্র বা ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ করে এমন কাজের জন্য শাস্তির বিধান আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যা গতকালের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিতর্কেও উঠে এসেছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দণ্ডবিধিতে নতুন নয়টি অপরাধ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মধ্যে সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী গঠন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা, উচ্চ প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এলাইন পিয়ারসন এ মাসের শুরুর দিকে এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, আইনগুলো জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য সংশোধন করা উচিত, পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার সহজ করার জন্য নয়।




























