কলম্বো টেস্টকে সামনে রেখে ভারতীয় দলে রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদবের জায়গা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন কাটছেই না। ভেন্যু বা ফরম্যাট বদলালেও একাদশে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এমন একটি বোলিং আক্রমণ বেছে নেওয়া যা প্রতিপক্ষের ২০টি উইকেট নিতে পারবে।
গালে টেস্টে তিন বাঁহাতি স্পিনার নিয়ে খেলার বিরল ঘটনা প্রসঙ্গে গম্ভীর বলেন, "আমরা এমন একটি সেরা বোলিং আক্রমণ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করব যা আমাদের ২০টি উইকেট এনে দিতে পারবে। টেস্ট ক্রিকেটে আপনি ১০০০ রান করতে পারেন, কিন্তু তাতে ম্যাচ জয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে ২০টি উইকেট নিতে পারলে ম্যাচ জেতার সব ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। আমাদের সামনে সব পথই খোলা থাকবে—তা সে দলে তিনজন বাঁহাতি স্পিনারই থাকুক, কিংবা কোনো অফস্পিনার বা তিনজন পেসার।"
কলম্বোতে কুলদীপ যাদবকে অনুশীলনে দেখা যায়নি। ম্যাচের দুই দিন আগে তিনি পূর্ণাঙ্গ সেশন থেকে বিশ্রাম চেয়েছিলেন এবং ম্যাচের আগের দিন ঐচ্ছিক অনুশীলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই দিনই অনুশীলনে সক্রিয় ছিলেন সারাংশ জৈন। নেটে দীর্ঘক্ষণ বল করার পাশাপাশি তিনি ঋষভ পন্তকে বেশ বিপাকে ফেলেন। এমনকি টেস্টের আগের দিন ব্যাটিং অনুশীলনও করতে দেখা গেছে সারাংশকে।
গালে টেস্টে অন্য স্পিনারদের তুলনায় কুলদীপের ওপর কাজের চাপ বেশ কম ছিল। তিনি প্রথম ইনিংসে ১৪ ওভার এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১১ ওভার বল করেছিলেন। অন্যদিকে, মানব সুথার যথাক্রমে ২১.৪ ও ২৩.৪ ওভার এবং রবীন্দ্র জাদেজা ২১ ও ২৩ ওভার বোলিং করেন।
তবে গালেতে কুলদীপকে কম বোলিং করানো হয়েছে—এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন গম্ভীর। তিনি বলেন, "আমরা সবাই জানি কুলদীপ কতটা ভালো বোলার। তবে অনেক সময় এটি অধিনায়কের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করে। কন্ডিশন বিবেচনা করে অধিনায়ক কোন স্পিনারকে দিয়ে বল করাতে চান, তা তাঁর ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। এখানে কাউকে কম বোলিং করানোর বিষয় নেই, আমাদের লক্ষ্য কেবল কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া।"
গম্ভীর আরও যোগ করেন, "যখন আপনি পাঁচজন মূল বোলার নিয়ে খেলবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কেউ একজন কিছুটা কম বোলিং করার সুযোগ পাবেন। এর মানে এই নয় যে কেউ পারফর্ম করতে পারছে না। বরং কন্ডিশন অনুযায়ী কাকে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক মনে হচ্ছে, অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট সেই সিদ্ধান্তই নেয়।"
কুলদীপের সঙ্গে নিজের আলোচনার কথা উল্লেখ করে প্রধান কোচ বলেন, "আমি কুলদীপকে বলেছি, উইকেট নেওয়ার জন্য মরিয়া না হয়ে নিজের স্বাভাবিক ভালো স্পেলটি বল করতে। কারণ একজন রিস্ট স্পিনার যখন উইকেট পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত মরিয়া হয়ে ওঠেন, তখন অনেক সময় তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যেতে পারে। আমরা কুলদীপকে অনেক উঁচুতে স্থান দিই এবং যেকোনো কন্ডিশনে ও কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে তা আমাদের জানা আছে। তবে আবারও বলছি, আমরা কন্ডিশন অনুযায়ী সেরা বোলিং আক্রমণই বেছে নেব।"




























