মধ্য সুইডেনের ফাগেরস্তা শহরের ব্রিনেল স্কুলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে তরবারি নিয়ে হামলা চালিয়েছে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। এই ভয়াবহ ঘটনায় একজন নিহত এবং অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হামলাকারী তরুণকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ প্রধান টমি আলরিকসন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। তবে গুলিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আহত হয়েছে কি না তা স্পষ্ট নয়। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়নি, বরং সরাসরি পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
রাজধানী স্টকহোম থেকে উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ফাগেরস্তা শহরের ব্রিনেল স্কুলে যখন এই হামলা চালানো হয়, তখন সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। টিটি নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাসম্যানল্যান্ড কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে গুরুতর আহত দুই কিশোরের বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশ প্রধান আলরিকসন বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে এই ঘটনার সাথে একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল।" তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ঘটনার অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দিতে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সে কারণে পুলিশ এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছে না।
পুলিশের মুখপাত্র পেলে ভামস্তাদ জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরের দিকে তারা জরুরি কল পান এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখবে। পুলিশ যখন স্কুল প্রাঙ্গণ সুরক্ষিত করতে ভেতরে প্রবেশ করে, তখনই নিহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই হামলাকে একটি "গুরুতর ঘটনা" বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রীষ্মকালীন ছুটির পরপরই ফাগেরস্তায় এমন সহিংসতার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এই কর্মকাণ্ডের পেছনে কী রয়েছে তা আমরা এখনও জানি না, তবে পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা।"
ঘটনার পর ফাগেরস্তা শহর কর্তৃপক্ষ স্কুলের কাছাকাছি একটি স্পোর্টস হলে ক্রাইসিস সেন্টার বা জরুরি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করেছে। ভাসম্যানল্যান্ড কাউন্টি সরকার জানিয়েছে, এই ঘটনায় বহু মানুষ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের সহায়তায় কাজ করছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশেপাশের বেশ কয়েকটি স্কুল লকডাউন করা হয় এবং রাস্তায় ব্যারিকেড বা রোডব্লক বসায় কর্তৃপক্ষ।





























