ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে থাকা অস্ত্র পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক জোটের নির্ধারিত বিদায়ের পরপরই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি। তিনি এই পদক্ষেপকে একটি ‘কৌশলগত ইরাকি সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
রোববার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরাকি নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) বিভিন্ন ব্রিগেডের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। সংলাপের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের শক্তিতে পরিণত হবে এবং এগুলো কোনো বিদেশি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।
যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক অধিকার যে রাষ্ট্রের, সে বিষয়ে ইরাকের সব রাজনৈতিক শক্তি একমত পোষণ করেছে বলে জানান আল-আরাজি। তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া একটি ‘লাল রেখা’। অর্থাৎ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াতে চায় না। তবে পিএমএফ যোদ্ধাদের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা দিচ্ছে বাগদাদ।
এদিকে, ইরানপন্থী কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এই সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। এর মধ্যে কাতাইব হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশি সেনাদের ইরাক ছাড়ার শর্তের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে উত্তর ইরাক থেকে তুরস্কের সেনা প্রত্যাহার এবং কুর্দি বাহিনী পেশমার্গাকে বিলুপ্ত করা।
উল্লেখ্য যে, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় থেকে এসব গোষ্ঠী ইরাকে বড় ধরনের সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জোটের বিদায়ের দাবি জানিয়ে আসছিল। এখন জোটের মিশন শেষ হওয়ার প্রাক্কালে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ সরকারি হাতে নেওয়ার এই উদ্যোগ ইরাকের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে সংঘাত এড়িয়ে এই প্রক্রিয়া কীভাবে সফলভাবে সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরাকে অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নেওয়ার এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এল, যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের মিশন প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ





























