কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যা মামলায় শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাঁদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় মামলার অপর আসামি নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে আদালত বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
রোববার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এই রায় ঘোষণা করেন। রায় দেওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম এবং দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামে মরিয়ম বেগমকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা মো. সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, দেবর নিজাম উদ্দিন ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে আসামি করা হয়েছিল।
ঘটনার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এরপর যুক্তিতর্ক শুনানি এবং মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা প্রদান করেন।




























