অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ারের মা লেসলি ভোগেল তার মেয়ের শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে প্রেমিক ব্রায়ান হিকারসনের দেওয়া বিবরণের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ২২ আগস্ট ডেইলি মেইলের সাথে এক ঘণ্টার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ভোগেল দাবি করেন, ১৬ আগস্ট সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ৩৬ বছর বয়সী প্যানেটিয়ারকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার আগে যে পরিস্থিতির কথা হিকারসন জানিয়েছেন, তা ছিল অসংলগ্ন ও রহস্যে ঘেরা।
গ্রিনভিল পুলিশ বিভাগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিকারসন এবং তার ভাই জ্যাক হিকারসনই জরুরি সেবা নম্বরে কল করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ কোনো ধরনের অপরাধ বা ফাউল প্লে-এর লক্ষণ পায়নি। তবে গ্রিনভিল পুলিশ, গ্রিনভিল কাউন্টি করোনার অফিস এবং ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধরন এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার দিন লেসলি ভোগেল নিজেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, পুলিশের কাছে যখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত হবে কি না, তখন এক কর্মকর্তা পাল্টা প্রশ্ন করেন, 'ব্রায়ান হিকারসন সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?'
পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ব্রায়ান হিকারসন দাবি করেছিলেন যে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্যানেটিয়ার যখন এয়ারবিএনবি-তে মেকআপ করছিলেন, তখন তিনি বাইরে কিছু আনতে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তিনি ঘুমানোর কথা জানান, কিন্তু তার ভাইয়ের আগমনের আগে তিনি যে প্যানেটিয়ারের সাথে কথা বলেছেন বা তাকে দেখেছেন, সে বিষয়ে পুলিশকে কিছু জানাননি। হিকারসনের ভাষ্যমতে, তার ভাই জ্যাক হিকারসন দরজায় নক করার পর তিনি দরজা খোলেন এবং তখনই প্যানেটিয়ারকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে জ্যাক হিকারসন ২১ আগস্ট টিএমজেড-কে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, ব্রায়ান ও হেইডেন লিভিং রুমের সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন। তারা দুজনেই হেইডেনকে জাগানোর চেষ্টা করেন এবং অচেতন অবস্থা বুঝতে পেরে জ্যাক ৯১১-এ কল করেন। জ্যাক আরও জানান, ব্রায়ান তখন হেইডেনকে নারকান (Narcan) প্রয়োগ করেন এবং অ্যাম্বুলেন্স আসার আগ পর্যন্ত তারা সিপিআর (CPR) চালিয়ে যান।
পুলিশের নথিতে দেখা গেছে, জরুরি কর্মীরা পৌঁছালে জ্যাক হিকারসন বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, অন্যদিকে ব্রায়ান হিকারসন তখনই আবেগপ্রবণ হন যখন ইএমএস কর্মীরা প্যানেটিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। লেসলি ভোগেল এই সময়ের ব্যবধান এবং নারকান ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, 'কেউ মারা যাচ্ছে আর তার পাশে শুয়ে থেকে টের পাওয়া সম্ভব নয়, এটা অবিশ্বাস্য। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় মানুষ স্থির থাকে না, শব্দ করে।' তবে কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কাউকে কোনো অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেনি। ব্রায়ান হিকারসনের আইনজীবী স্লোয়ান এলিস এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।






























