সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারাহ দেশটির নাম যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ স্পনসরকারী দেশের তালিকা থেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সিরিয়ার জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দামেস্ককে সমর্থনকারী দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সোমবার এক বক্তব্যে আল শারাহ বলেন, 'আমি সিরিয়ার জনগণকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদের তালিকা থেকে দেশটির নাম বাদ পড়ার জন্য অভিনন্দন জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং সেইসব ভাই ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই যারা সিরিয়া ও সিরিয়ার জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।'
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল শাইবানির মতে, এই সিদ্ধান্ত সিরিয়ার জনগণের পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন যে, ৪৭ বছর পর এই তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহার হওয়া একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি আরও বলেন, এই তালিকাভুক্তির বিষয়টি মূলত ২০২৪ সালের শেষ দিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এটি কখনোই সিরিয়ার জনগণের পছন্দ ছিল না। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারাহর নির্দেশনায় সিরিয়া আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে এবং স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই পদক্ষেপকে সিরিয়ার বিচ্ছিন্নতা থেকে অংশীদারিত্বের পথে রূপান্তরের একটি 'নির্ণায়ক পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এই তালিকাটি একটি দেয়াল হিসেবে কাজ করছিল যা সিরিয়ার জনগণকে তাদের দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। এখন এই তালিকা থেকে নাম সরানোর ফলে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পথ প্রশস্ত করবে।'
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদ স্পনসরকারী দেশের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে আল-নুসরা ফ্রন্ট বা হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর ওপর থেকে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে দেওয়া বিশেষ পদবিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৯৭৯ সাল থেকে সিরিয়া এই তালিকায় ছিল। দামেস্ক মনে করে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন পথ উন্মুক্ত হবে, যদিও কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এখনো পৃথক আইনি কাঠামোর অধীনে কার্যকর রয়েছে।




























