রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার রাতে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কড়া নিরাপত্তায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। শিক্ষক গণপতি তাদের চিনে ফেলায় এবং ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় আসামিরা তাকেসহ পরিবারের চারজনকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। তবে পুলিশের এই ভাষ্য নিয়ে নিহত শিক্ষকের শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তীসহ স্বজন, প্রতিবেশী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মনে গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, ছাদের দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আসামিরা কেন পালিয়ে না গিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় চারজনকে হত্যা করলেন? এছাড়া ওই বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার রহস্য এবং ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য রাখা ৬০ লাখ টাকার কোনো হদিস না পাওয়ার বিষয়টিও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা স্থায়ী এ অবরোধের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গণপতি চক্রবর্তী এই স্কুলেরই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন এবং তার ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী একই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই যুবককে গ্রেফতার করে পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি কতটা যৌক্তিক। জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী পুলক রহমান জানান, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান বলেন, চারজন মানুষকে মাত্র দুজন হ্যাংলা-পাতলা ছেলে কীভাবে হত্যা করল, তা অবিশ্বাস্য।
রোববার বিকালে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, আসামিরা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামিরা পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যই আদালতে স্বীকার করেছেন এবং দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।





























