রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে ভিআইপি সড়ক—সবখানেই এখন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট। বেপরোয়া গতি, সিগন্যাল অমান্য করা এবং উল্টোপথে চলাচলের কারণে এই যানগুলো নগরবাসীর জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হচ্ছেন। অথচ ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই এসব রিকশা ভিআইপি সড়কে চলাচল করছে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ করার ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, তেমনি সরকারের রাজস্বও ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, গত দুই বছরে ঢাকায় অটোরিকশার সংখ্যা গাণিতিক হারে বেড়েছে। রাজনৈতিক শেল্টারে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণে এসব রিকশা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয়, ঢাকায় ১০ থেকে ১৫ লাখের বেশি আনরেজিস্ট্রার্ড অটোরিকশা রয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে এদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ বলছে, ব্যবস্থা নিতে গেলে চালকদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়, আবার জনবল সংকটের কারণেও নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হয় না।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, ট্রাফিক যানজট নিরসন এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। পুরো ঢাকা শহরকে মোট ৮টি নির্দিষ্ট জোনে ভাগ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং এবং ডিজিটাল নম্বর প্লেটসহ কিউআর কোড থাকবে। এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব সোলার চার্জিং হাব স্থাপনের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, অটোরিকশার মান, কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নীতিমালায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, বাইরের কোনো অটোরিকশা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বুয়েটের মাধ্যমে কারিগরি যাচাই-বাছাই করে রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। সরকার এখন এই বিপজ্জনক যান চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।






























