দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রস্তাব আজ মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। এর ফলে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন নতুন স্কেলে পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং বকেয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে সমন্বয় করা হবে। গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগলেও বেতন বৃদ্ধির কার্যকর তারিখ পরিবর্তন করা হবে না। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে এবং ভেটিং শেষে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন কাঠামোটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর করা হবে।
কমিশনের প্রাথমিক সুপারিশে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল। তবে এই সুপারিশ বাস্তবায়নে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আরও বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হবে।
সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত আয় কমে গেছে, তাই বেতন বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির দিকেও জোর দিতে হবে এবং একবারে বড় আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও প্রশাসনিক বাস্তবতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে।





























