টানা দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, রোববার সকালে প্রতিটি গেট দুই ফুট করে উন্মুক্ত করা হয়। এর ফলে স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শনিবার রাতে প্রথমে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটগুলোর ওপেনিং আরও ছয় ইঞ্চি বাড়িয়ে এক ফুট করা হলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে পৌঁছায়। সবশেষ রোববার সকালে গেটগুলো দুই ফুট করে খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে পানি প্রবাহের হার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৬ দশমিক দুই ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল হওয়ায় পানির স্তর এখন বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি রয়েছে। এর আগে শনিবার দুপুরে পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। হ্রদে পানির চাপ বাড়ায় বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই চালু রেখে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।
এদিকে, বাঁধের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে অবমুক্ত করায় নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নদীর পানি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ































