কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফ্রেডি মার্কারির মৃত্যুর ৩৫ বছর পর এবং তার ৮০তম জন্মবার্ষিকীর সপ্তাহে এসে তার জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মানুষ মেরি অস্টিন তাদের অটুট বন্ধন ও অজানা অনেক স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন। মেরি জানিয়েছেন, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি চারটি রুপালি ট্রাঙ্কে ফ্রেডির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র প্যাক করেছিলেন, যার মধ্যে ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’, ‘কিলার কুইন’, ‘উই আর দ্য চ্যাম্পিয়ন্স’ এবং ‘ডোন্ট স্টপ মি নাও’-এর মতো কালজয়ী গানের মূল পাণ্ডুলিপি ছিল। দীর্ঘ সময় এগুলো না খুললেও, ২০২২ সালে তিনি একটি ট্রাঙ্ক খোলার সাহস করেন এবং ফ্রেডির লিরিক্সের সংকলন ‘ফ্রেডি মারকারি: আ লাইফ ইন লিরিকস’ প্রকাশের উদ্যোগ নেন।
১৯৭০ সালে লন্ডনের কেনসিংটন মার্কেটে ফ্রেডির সাথে মেরির পরিচয় হয়। মেরি তখন ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘বিবা’র ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে গভীর বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা থেকে। মেরি জানান, ফ্রেডি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী ও উচ্ছল, অন্যদিকে মেরি ছিলেন কিছুটা লাজুক। তবে তাদের দুজনেরই শৈশব ছিল কঠিন, যা তাদের একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে। ফ্রেডি ছিলেন পার্সি ভারতীয় বংশোদ্ভূত, যা তিনি ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেকটা গোপনই রেখেছিলেন। মেরি জানান, ফ্রেডি রোদে বের হতেন না যাতে তার গায়ের রঙ কালো না হয়ে যায়, কারণ তিনি নিজেকে শ্বেতাঙ্গ ইংরেজ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইতেন।
এক সময় ফ্রেডি মেরিকে জানান যে তিনি উভকামী, যদিও মেরি তখন থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন যে ফ্রেডি মূলত সমকামী। এই সত্যটি জানার পর তাদের শারীরিক সম্পর্ক শেষ হলেও, মেরি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থেকে যান। এমনকি ফ্রেডি তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে মেরির ওপরই সবচেয়ে বেশি ভরসা করেছিলেন। ফ্রেডির মৃত্যুর আগে মেরি তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন, যা ছিল এক কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং সময়।
ফ্রেডির মৃত্যুর আগে তিনি মেরি অস্টিনকে তার কেনসিংটনের বাড়ি ‘গার্ডেন লজ’ এবং তার সম্পত্তির অর্ধেক উইল করে দিয়ে যান। মেরি জানান, ফ্রেডি চাইতেন না তার বাড়িটি কোনো মিউজিয়াম হোক। ফ্রেডির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার চিতাভস্ম কোথায় রাখা হয়েছে, তা মেরি আজও গোপন রেখেছেন, যা নিয়ে ফ্রেডির পরিবারের সাথে মেরির দূরত্বও তৈরি হয়েছিল।
মেরি অস্টিন স্বীকার করেন যে, ফ্রেডি মারকারিই তার জীবনের একমাত্র প্রকৃত ভালোবাসা। ফ্রেডি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্ত্রী’ হিসেবে গণ্য করতেন। মেরি তার দুই ছেলেকে বড় করেছেন এবং ফ্রেডির স্মৃতি আগলে রেখেছেন। জীবনের এই পর্যায়ে এসে মেরি অস্টিন মনে করেন, ফ্রেডির সাথে কাটানো সময়গুলো ছিল অসাধারণ, তবে সেই স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকাটা দীর্ঘ সময় ধরে তার জন্য বেশ একাকীত্বের ও যন্ত্রণাদায়ক ছিল। বর্তমানে তিনি তার জীবন থেকে এই বোঝা কমাতে চাইছেন এবং তার ছেলেদের সাথে নিয়ে ফ্রেডির স্মৃতিকে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন।






























