নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে একজনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে বলে মঙ্গলবার নেপালি সরকারি কর্মকর্তারা সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। এই খবর বিশ্বজুড়ে প্রিয়জনদের অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার পরিবারের জন্য কিছুটা আশার আলো নিয়ে আসতে পারে। তবে ওই মার্কিন নাগরিকের পরিচয়, অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয় এবং সিবিএস নিউজ বিষয়টি যাচাই করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ১,০৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রায় ৪,৬০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, তিব্বত সীমান্তে চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে এবং সেখানে এখনো ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সংগৃহীত নথিতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা নিখোঁজ থাকা হাজার হাজার মানুষের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি নাগরিকের সাথে যোগাযোগ করতে পেরেছেন। এই পাঁচজনের মধ্যে ওই একজন মার্কিন নাগরিক ছাড়াও তিনজন স্প্যানিশ এবং একজন বেলজিয়ামের নাগরিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৩১৫ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সিবিএস নিউজ নেপালের দুর্যোগ এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মার্কিন নাগরিক অঞ্জনা রাজা এবং পট্টভিরামন ভেঙ্কটেশানের সাথে কথা বলেছে। সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার এই দম্পতি তিব্বতে তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে নেপাল সীমান্তে তারা বন্যার কবলে পড়েন। ভেঙ্কটেশান জানান, পাহাড়ের ঢাল বেয়ে আসা বন্যাকে তাদের কাছে একটি বিশাল কালো সুনামির মতো মনে হয়েছিল, যা একপর্যায়ে অগ্নিকাণ্ড বলেও ভ্রম হয়েছিল। তারা কোনোমতে বাস থেকে নেমে পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নেন এবং একটি ছাগলের শেডে রাত কাটিয়ে পরদিন হেলিকপ্টারে উদ্ধার পান।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মী রয়েছেন, যারা দুর্যোগ কবলিত এলাকার বিভিন্ন প্রকল্পে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলগুলো কাদাভর্তি সুড়ঙ্গ পরিষ্কার করে তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সুড়ঙ্গের ভেতরের অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
প্রায় এক সপ্তাহ আগে হিমালয়ের পাহাড় ও হিমবাহ ধসে তিব্বত ও নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও তুষারধসের সৃষ্টি হয়। ত্রিশূলি নদীর পানির উচ্চতা যে পরিমাণ বেড়েছে, তা স্থানীয়দের স্মৃতিতে বিরল। ২২ বছর বয়সী রোহিত তামাং, যিনি সারা জীবন ত্রিশূলি নদীর পাড়েই কাটিয়েছেন, জানিয়েছেন তিনি চোখের সামনেই পানি বাড়তে দেখেছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অনেক বিদেশি পর্যটক হয়তো পাহাড়ে হাইকিংয়ের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, তবে তারা নিরাপদে থাকতে পারেন বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।































