প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম (01 September 2026, 10:54 PM)
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যর্থতা ও ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কার মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে নীতিগত বিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা তথা সেনাবাহিনী বিষয়কমন্ত্রী (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যানিয়েল পি. ড্রিসকল। স্থানীয় সময় সোমবার তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ করে। জানা গেছে, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সামরিক কর্মকর্তাদের অপসারণের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন ড্রিসকল। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করে সেনাবাহিনীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
৪১ বছর বয়সি ড্যান ড্রিসকল প্রায় ১৮ মাস এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ও ড্রোনের প্রতি বিশেষ আগ্রহের কারণে ট্রাম্পের কাছে তিনি ‘ড্রোন গাই’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মার্কিন ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে কম বয়সে আর্মি সেক্রেটারির দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পদমর্যাদার দিক থেকে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের ঠিক পরেই ছিলেন।
ড্রিসকলের এই পদত্যাগ এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর মার্কিন সেনাবাহিনী সবচেয়ে বড় সংকটের মুখোমুখি। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন কমান্ড ইউক্রেনকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে একের পর এক জ্যোষ্ঠ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে হেগসেথ সেনাবাহিনীকে কার্যত নেতৃত্বহীন করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত এপ্রিলে কোনো কারণ ছাড়াই তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করার পর থেকে সেনাবাহিনীতে কোনো ‘চিফ অব স্টাফ’ নেই। হেগসেথ এমন অন্তত তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়েছেন যারা জেনারেল জর্জের স্থলাভিষিক্ত হতে পারতেন। এছাড়া গত এপ্রিলে নৌবাহিনীর সচিব জন ফেলান, জেনারেল ডেভিড হডনে এবং মেজর জেনারেল উইলিয়াম গ্রিনের মতো শীর্ষ কর্মকর্তারাও পদ ছেড়েছেন।
সামনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে নতুন কোনো আর্মি সেক্রেটারি নিয়োগ এবং সিনেটে তার অনুমোদন পাওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতার দায়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদত্যাগের দাবিও জোরাল হচ্ছে। বিশেষ করে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর জন অশঅফ হেগসেথের অপসারণের দাবিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছেন।






























