বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ আগস্ট থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই।
এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া অভিবাসী ভিসা স্থগিতের এই নীতিটি মার্কিন একটি আদালত বাতিল করে দেয়। আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছিল যে, এই নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছেন। আলোচিত এই মামলাটি মার্কিন আদালতে ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় তাদের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে এবং তারা কেন্দ্রীয় বা অঙ্গরাজ্য সরকারের সম্পদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
গত ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ মামলার আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনকার্ড বা ইমিগ্রান্ট ভিসাধারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যেন যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন, তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের প্রাথমিক যাচাইকরণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নীতিমালাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করছে।
ভারতের ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থগিতাদেশ চলাকালীনও এই ৭৫টি দেশের আবেদনকারীরা ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও সেই সময়ে সাক্ষাৎকার গ্রহণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছিল। বর্তমানে স্থগিতাদেশ পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় আবেদনকারীরা প্রচলিত নিয়ম মেনেই তাদের ভিসা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন।






























