কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের আলোচিত শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল। বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর অনুরোধে এবং আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই আন্তর্জাতিক পরোয়ানা জারি করা হয়। এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, অভিযুক্ত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং আটকের সুবিধার্থে পিবিআই আদালতের শরণাপন্ন হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, পিবিআই এনসিবি-ঢাকাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানায়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া নথিপত্র ও তথ্য পর্যালোচনার পর ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৬ সালের ২০শে মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল ও ১২ই জুন কুমিল্লার ফরেনসিক বিভাগ দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও তাতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত ৬ই এপ্রিল পিবিআই সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলমের ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করে, যা আদালত মঞ্জুর করেন।






























