সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এবং দেশটিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকান বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ম্যাসাড বোলোস শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন একটি সমন্বিত শান্তি পরিকল্পনা তৈরির জন্য কাজ করছে, যার লক্ষ্য হলো যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে তাদের মানবিক দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বোলোস বলেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে মানবিক যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছেন, যাতে যারা সবচেয়ে বেশি অসহায় তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো যায়। একই সঙ্গে তিনি সুদানে মানবিক সহায়তা কর্মীদের ওপর ক্রমবর্ধমান আটকাদেশের তীব্র নিন্দা জানান এবং তাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি তোলেন। বোলোস জোর দিয়ে বলেন, সুদানে ত্রাণ কর্মীরা জীবন বাজি রেখে অন্যের জীবন বাঁচাচ্ছেন; তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
বোলোসের এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন সুদানে ত্রাণ কর্মীদের আটকের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সুদানে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন সোমবার সতর্ক করে বলেন, অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ত্রাণ কর্মীদের আটকে রাখছে, যা ত্রাণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করার পাশাপাশি কর্মীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি আটককৃতদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এবং সব পক্ষকে মানবিক সংস্থাগুলোর নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় ১৯.৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন। এছাড়া ৮ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি শিশু চরম অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। সংঘাত অব্যাহত থাকায় এবং ত্রাণ সহায়তায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।






























