মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হতাহত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের সরকারি ওয়েবসাইট নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জর্ডান ও ইরাকে নিহত চার মার্কিন সেনাকে ‘ওভারসিজ অপারেশনস ক্যাজুয়ালটিজ’ (বিদেশি অভিযান হতাহত) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ ইরান যুদ্ধের জন্য নির্ধারিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর পেন্টাগনের তথ্য গোপন বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিষয়টি সামনে এসেছে।
পেন্টাগনের ডেটাবেজ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৪ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে গত সপ্তাহে একপর্যায়ে এই চার সেনার নামও ওই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে নিহতের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাদের নাম সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয় এবং ডেটাবেজে নিহতের সংখ্যা আবার ১৪ তে নামিয়ে আনা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম এই অসঙ্গতির খবর প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর এই চার সেনা নিহত হওয়ায় তাদের মূল তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে নথিপত্র অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে চিঠি দিয়ে যুদ্ধবিরতি শেষ এবং পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর এই চার সেনা নিহত হন। নিহতরা হলেন—ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান, সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল এস রামপারসাদ, প্রাইভেট ইসাবেলা গঞ্জালেস এবং সার্জেন্ট মাইকেল ইমানুয়েল সুইন্টন।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অসঙ্গতির জন্য ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’-এর সাময়িক ডেটা বিভ্রাট ও সাইটের ত্রুটিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে এই ত্রুটি দূর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বেনামী সূত্রের বরাত দিয়ে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা গল্প’ ছড়ানোর অভিযোগে নিউ ইয়র্ক টাইমসের তীব্র সমালোচনা করেন পার্নেল।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জর্ডানে ইরানি হামলায় নিহত তিন সেনার মধ্যে দুজনের নাম প্রকাশের সময় পেন্টাগন প্রথমে তাদের আইএসআইএস-বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’-এর অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইরান যুদ্ধের শুরু থেকেই আহতদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পেন্টাগনের ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে হামলায় কয়েক ডজন সেনা আহত হওয়ার খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশের পর, পেন্টাগন সাংবাদিকদের ওয়েবসাইটের তথ্য দেখতে বলে। কিন্তু সেই ওয়েবসাইটটি বেশ কয়েকদিন ধরে আপডেট করা হয়নি এবং সেখানে সাম্প্রতিক মৃত্যুর তথ্যও ছিল না।
গত মে মাসের পর থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের কোনো ব্রিফিং দেননি। এমনকি এই চার সেনার মৃত্যুর শ্রেণিবিন্যাস নিয়েও তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে শন পার্নেল নিশ্চিত করেছেন যে, গত ৭ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আহতদের মধ্যে ৯৬ শতাংশই আবার দায়িত্বে ফিরেছেন এবং অধিকাংশেরই আঘাত ছিল ‘সামান্য কনকাশন’ বা মৃদু মস্তিষ্কের আঘাত। যদিও চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, মৃদু কনকাশনও অনেক সময় গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতের কারণ হতে পারে এবং এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সময় লাগতে পারে।
পার্নেল জানান, ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেমে পরবর্তীতে আরও আপডেট দেওয়া হবে। গত রবিবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ওয়েবসাইটে ইরান যুদ্ধে ৪১৭ জন সেনা আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা গত সপ্তাহের শুরুর দিকের ৪৮২ জনের চেয়ে কম। অন্যদিকে, বর্তমানে ২০৭ জন সেনাকে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’-এ আহত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।





























