জার্মানিতে গত সপ্তাহে বার্লিন প্রাইড প্যারেডে এক ভয়াবহ চরমপন্থী হামলার ঘটনার পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরোপের দুই প্রধান শহর হামবুর্গ ও আমস্টারডামে প্রাইড প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই হামলায় একজন নিহত ও দুই ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার শোক কাটিয়ে ফের উৎসবে মেতেছেন লাখো মানুষ।
জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গের প্রাইড প্যারেডে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। আয়োজক ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এবারের উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল, "সহমর্মিতায় কুইয়ার। রুখে দাঁড়াও—ভয়হীন ভবিষ্যতের জন্য।" প্যারেডে অংশ নেওয়া গাড়িবহরের মধ্যে একটি ট্রাক ছিল বার্লিন উৎসবের প্রতিনিধিত্বকারী। বার্লিন হামলার শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওই ট্রাকে থাকা ব্যক্তিদের কালো পোশাক পরার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বার্লিন প্যারেডের আয়োজক ম্যানুয়েল ওপিৎজ বলেন, "এখানকার পরিবেশ দেখলেই বোঝা যায় মানুষের মনে এখনও আনন্দ রয়েছে। আমার অন্তত তেমনটাই মনে হচ্ছে। আমরা আমাদের হৃদয়ে শোক এবং বার্লিনকে ধারণ করছি, তবে একই সাথে নিজেদের গর্ব নিয়ে রাস্তায় নেমেছি এবং আপনারা তা দেখতেই পাচ্ছেন।"
অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্যানাল বোট প্যারেড। এটিই শহরটির বার্ষিক প্রাইড উৎসবের মূল আকর্ষণ। এবারের প্যারেডে ৮০টি সুসজ্জিত নৌকার বহর অংশ নেয়। একটি ছোট নৌকায় চড়ে বিশাল জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন নেদারল্যান্ডসের সমকামী প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেন। এ সময় তার পরনে ছিল সাদা শার্ট, কালো লাইফ ভেস্ট এবং গলায় সোনার চেইন। উৎসবের আবহ ফুটিয়ে তুলতে পুরো রুট জুড়ে বাজানো হয় টেকনো মিউজিক। প্যারেডে ডাচ সরকারি মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, পুলিশ এবং এলজিবিটিকিউ+ সংগঠনের নৌকাগুলোও অংশ নেয়।
উত্সবের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ খালের পানিতে স্পিডবোট নিয়ে টহল দেয় এবং আকাশে হেলিকপ্টার নজরদারি চালায়। বার্লিন হামলার পর আমস্টারডামের মেয়র ফেমকে হালসেমা জানিয়েছিলেন যে, দর্শনার্থীদের কোনো অসুবিধা না ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এ বছর ডাচ রাজধানী আমস্টারডামে ওয়ার্ল্ড প্রাইড উৎসবও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত ২৫ জুলাই বার্লিনের প্রাইড ইভেন্টে বা ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে-তে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি নিয়ে হামলা চালান ২১ বছর বয়সী আব্দুল বালুত। গাড়ি থেকে নেমে তিনি রামদা (ম্যাচেটে) দিয়ে কয়েকজনকে আঘাত করেন। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পালিয়ে থাকার পর বার্লিনের এক শহরতলিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বালুত। লেবানিজ বংশোদ্ভূত এই জার্মান নাগরিকের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আইসিসের (ISIS) যোগাযোগ ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চরমপন্থা দূরীকরণ কর্মসূচিতে থাকা বালুতের সন্দেহজনক আচরণ ধরা পড়ায় তাকে সেই কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। এর আগেও একাধিক অপরাধের কারণে তিনি পুলিশের তালিকায় ছিলেন।
হামলার পর বার্লিনের দুর্ঘটনাস্থলের পাশে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে শত শত মানুষ ফুল, রংধনু পতাকা, মোমবাতি ও ব্যানার নিয়ে জড়ো হয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে উপস্থিত এক নারী বলেন, "এটি কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়, তারা সাধারণ মানুষ। ভালোবাসার পছন্দের কারণে কাউকে এভাবে বিচার করা বা হত্যা করা উচিত নয়।"





























