ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার সভাপতিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে মরক্কোতে এক জরুরি সংকটকালীন বৈঠক ডেকেছেন। বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত ও ব্যর্থ উদ্যোগের পর তার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে এবং বিশ্বস্ত সহযোগীদের সমর্থন হারাচ্ছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বুধবার জ্যেষ্ঠ ফিফা কর্মকর্তাদের এই বৈঠকে তলব করেছেন তিনি।
ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল গ্রাফস্ট্রোম গত মঙ্গলবার কর্মীদের কাছে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির এই বাতিল হওয়া পরিকল্পনাকে "একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনাপ্রবাহ" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে, ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান আর্সেন ভেঙ্গার এই প্রস্তাব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন এবং পরিকল্পনাটি বাতিল করার সিদ্ধান্তকে "অত্যন্ত প্রয়োজনীয়" বলে মন্তব্য করেছেন। আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবের সাবেক এই ম্যানেজার দাবি করেছেন, গণমাধ্যমে খবর আসার আগে তিনি এই পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি আরও বলেন, ফিফাকে অবশ্যই "অঙ্গীকার, স্বচ্ছতা এবং সততার" সাথে ফুটবলের সেবা করতে হবে।
এদিকে বুধবার এক নাটকীয় মোড়ে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন হুসেইন ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে সরাসরি "ব্ল্যাকমেইল" বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ এনেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, "আমরা জর্ডানে নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখাকে গর্বের বিষয় মনে করি। আমরা আগেও তাকে সমর্থন করিনি এবং নিশ্চিতভাবেই এখনও করব না। তবে পুরো পরিস্থিতি ব্ল্যাকমেইলের সমতুল্য এবং আমরা এর কাছে নতি স্বীকার করতে রাজি নই।" ফিফা এই মন্তব্যের বিষয়ে অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ কেবল বাইরে থেকেই নয়, ফিফার ভেতর থেকেও আসছে। গত সপ্তাহে তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেন। এরপর ফিফার চিহ অপরেটিং অফিসার কেভিন ল্যামুর অভিযোগ করেন যে, এই পরিকল্পনা নিয়ে কর্মীদের "প্রতারিত" করা হয়েছে। সেক্রেটারি জেনারেল গ্রাফস্ট্রোম অবশ্য কর্মীদের লিখেছেন, ফিফাকে ঘিরে এই অস্থিরতা "বোঝা এবং মেনে নেওয়া কঠিন" হলেও "ব্যক্তি, অস্থির সময় এবং দুর্ভাগ্যজনক অধ্যায় আসে এবং চলেও যায়।"
গত শনিবার উয়েফা (UEFA) তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে আস্থা হারানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন প্রত্যাহারের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং ওয়েলসের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। উয়েফার এই বিরোধিতাকে সমর্থন জুগিয়েছে এশিয়া এবং কনকাকাফ কনফেডারেশন। তবে বিপরীতে বুধবার আফ্রিকার পাঁচজন প্রভাবশালী ফুটবল ব্যক্তিত্ব ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ, যার মধ্যে মরক্কোর সিএএফ সহ-সভাপতি ফৌজি লেকজাও রয়েছেন, ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিচ্ছেন। এছাড়া কাতার, কুয়েত, লেবানন, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল ফেডারেশনও তার প্রতি সমর্থন বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
আগামী বছরের মার্চ মাসে পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করা সুইজারল্যান্ডের এই নাগরিক গত সপ্তাহ থেকেই মরক্কোতে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের সিংহাসনে আরোহণের ২৭তম বার্ষিকী উদযাপনে অংশ নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ স্পেন ও পর্তুগালের সাথে যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো এবং তারা ফাইনাল ম্যাচটি নিজেদের দেশে আয়োজন করতে আগ্রহী। এদিকে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমর্থন চেয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তাকে "সম্পূর্ণ কাল্পনিক" বলে উড়িয়ে দিয়েছে ফিফা। শনিবার ভোরে বিশ্বকাপের শেয়ার বিক্রির চেষ্টা বাতিলের ঘোষণার পর থেকে ইনফান্তিনোকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি, যদিও তিনি তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনের বার্তা পোস্ট করে যাচ্ছেন।





























