মহাকাশপ্রেমীদের জন্য চমৎকার এক রাতের অপেক্ষা। ১২ ও ১৩ আগস্ট রাতে উত্তর গোলার্ধের আকাশে দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য ‘পারসেইড উল্কাবৃষ্টি’। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এটিকে বছরের সেরা উল্কাবৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই উল্কাবৃষ্টির সময় অত্যন্ত দ্রুতগতির ও উজ্জ্বল উল্কাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় পেছনে আলো ও রঙের দীর্ঘ রেখা রেখে যায়। এ সময় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৫০ থেকে ১০০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। উত্তর গোলার্ধের বাসিন্দাদের জন্য এটি দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ১৩ আগস্ট ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টা। তবে যারা খুব ভোরে উঠতে চান না, তারা ১২ আগস্ট রাত ১০টা থেকেই এই দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
মহাকাশে যেকোনো অন্ধকার রাতে সাধারণ কিছু উল্কা চোখে পড়তে পারে। তবে বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে পৃথিবী যখন ধূমকেতু বা কোনো কোনো গ্রহাণুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষের স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন এমন চোখধাঁধানো উল্কাবৃষ্টি ঘটে। মহাকাশের এই ধ্বংসাবশেষগুলো অত্যন্ত তীব্র গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ধাক্কা খেয়ে জ্বলে ওঠে, যা আমাদের কাছে ‘শুটিং স্টার’ বা তারা খসা নামে পরিচিত।
পারসেইড উল্কাবৃষ্টি মূলত ‘১০৯পি/সুইফট-টাটল’ নামক একটি বরফাবৃত ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ। এই ধূমকেতুটি প্রতি ১৩৩ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং ২১২৫ সালের আগে এটি আর পৃথিবীর কাছাকাছি ফিরবে না। তবে মানুষ প্রায় ২,০০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই উল্কাবৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করে আসছে।
টেক্সাসের ম্যাকডোনাল্ড অবজারভেটরির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জ্যাক ভ্যান্ডারবোশ বলেন, "এই চমৎকার উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য আমাদের কনকনে শীতের রাতের মতো কষ্ট সহ্য করতে হবে না।"
এবারের উল্কাবৃষ্টির সময়ে আরেকটি বড় সুবিধা হলো চাঁদের অবস্থান। এই সময়ে আকাশে নতুন চাঁদ (অমাবস্যা) থাকবে, যার ফলে আকাশ থাকবে অন্ধকার এবং দেখার পরিবেশ হবে চমৎকার। সান ফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী অপর্ণা ভেঙ্কটেশন চাঁদের এই অনুপস্থিতিকে ইতিবাচকভাবে বর্ণনা করে বলেন, "চাঁদ সুন্দর, তবে এটি যেন এক ‘ডিভা’। অমাবস্যার কারণে আকাশে চাঁদের আলোর জোয়ার থাকবে না, যার ফলে অনেক বেশি উল্কা স্পষ্টভাবে চোখে পড়বে।" এই দৃশ্য উপভোগ করতে তিনি নিজে সিয়েরা নেভাদায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে ভালো সময় হলো মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত, যখন উত্তর আকাশে ‘পারসিয়াস’ নক্ষত্রমণ্ডলটি উঁচুতে অবস্থান করে। উল্কাগুলো মূলত এই নক্ষত্রমণ্ডল থেকেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে হয়। মেঘমুক্ত অন্ধকার আকাশ এবং শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো জায়গায় গিয়ে আকাশের দিকে তাকালেই এই দৃশ্য দেখা যাবে।
চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তত আধা ঘণ্টা সময় দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ভ্যান্ডারবোশ। তিনি আরও বলেন, আকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশে মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং দেখার সময় মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকানো এড়াতে হবে। পুরো বিষয়টিকে তিনি ‘জাদুকরী’ বলে অভিহিত করেছেন।





























