জাপানের সর্বউত্তরের প্রদেশ হোক্কাইদোর বিস্তীর্ণ চারণভূমি ও দুগ্ধ খামারের নিচে প্রায় ৩০০ মিটার গভীরে অবস্থিত হোরোনোবে আন্ডারগ্রাউন্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরি। এই গবেষণাগারে প্রকৌশলীরা এমন একটি জটিল সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন, যা এখন পর্যন্ত কোনো দেশই পুরোপুরি সমাধান করতে পারেনি। তাদের মূল লক্ষ্য হলো, অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় বর্জ্যকে হাজার হাজার বছর ধরে পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখার উপায় বের করা।
জাপান অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (জেএইএ) এই গবেষণাগারটি পরিচালনা করে। মে মাসে এই স্থাপনায় প্রবেশের বিশেষ সুযোগ পাওয়ার পর দেখা গেছে, সেখানে মাটির নিচে গ্যালারি তৈরি করে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। মূলত উচ্চ-স্তরের তেজস্ক্রিয় বর্জ্যকে ভূগর্ভস্থ স্তরে কীভাবে নিরাপদে রাখা যায়, তা নিয়ে গবেষণার জন্য নির্মিত জাপানের দুটি ল্যাবের মধ্যে হোরোনোবে বর্তমানে একমাত্র সচল গবেষণাগার। এর আগে গিফু প্রিফেকচারে মিজুনামি আন্ডারগ্রাউন্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি কেন্দ্র ছিল, তবে লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২২ সালে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
হোরোনোবে গবেষণাগারটি নিওজিন যুগের পাললিক শিলার মধ্যে অবস্থিত, যা জেএইএ-র গবেষকদের জন্য একটি অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে। এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালের নভেম্বরে, যখন হোক্কাইদোর গভর্নর, হোরোনোবে শহরের মেয়র এবং জেএইএ-র প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর দুই দশক ধরে খনন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়।
বর্তমানে ল্যাবটিতে বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে, যেখানে প্রকৌশলীরা কৃত্রিম বাধা, ভূগর্ভস্থ পানি এবং পার্শ্ববর্তী শিলার পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। জেএইএ-র দুটি প্রধান পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে 'ফুল-স্কেল ইঞ্জিনিয়ারড ব্যারিয়ার সিস্টেম পারফরম্যান্স' এবং 'সলিউট ট্রান্সপোর্ট এক্সপেরিমেন্ট'। এগুলোর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে যে, দীর্ঘ সময়ে পানির চাপ ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মুখে বেন্টোনাইট বাফার, ক্যানিস্টার এবং সিমেন্ট-ভিত্তিক উপকরণগুলো কীভাবে কাজ করে। এছাড়া ভূমিকম্প বা ভূগর্ভস্থ পানির প্রবাহের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বর্জ্য সংরক্ষণের নিরাপত্তা কীভাবে অটুট রাখা যায়, তাও এই গবেষণার অবিচ্ছেদ্য অংশ।




























