রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা এবং আমদানি ব্যয় কমে আসায় দেশের আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম নিম্নমুখী। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ৬১ পয়সা বা ০.৫০ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। এদিন ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১২৩ টাকা ৪১ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা ৫ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। অথচ গত ৬ই আগস্ট এই বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা, যেখানে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত ডলার মজুদ থাকায় তারা উচ্চমূল্যে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে না। ব্যাংকগুলো এখন ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোকে তুলনামূলক কম দামে এলসি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিচ্ছে। গত তিন দিনে ডলারের নিষ্পত্তির দর কমিয়ে আনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা আরও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, বাজারে ডলারের দর মূলত চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো এবং চাহিদা কম থাকায় ডলারের দাম স্বাভাবিকভাবেই কমছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ডলারের দাম কমার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে রেমিট্যান্সে ৫০ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং এই মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশে দেড় বিলিয়ন ডলার এসেছে। এছাড়া জ্বালানি তেল ও সারসহ সরকারি কেনাকাটায় পেমেন্টের চাপ কম থাকায় ডলারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে কার্ব মার্কেটের তুলনা করা যৌক্তিক নয়, কারণ খোলা বাজারে দর নির্ধারণ করেন ব্যবসায়ীরাই।
এদিকে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দাম কমলেও খোলা বাজারে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার খোলা বাজারে প্রতি ডলার ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে এবং কেনা হয়েছে ১২৭ টাকা দরে। মতিঝিলের ডলার ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় খোলা বাজারে দাম বেশি। উল্লেখ্য, সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও জনতা ব্যাংক ১২৪ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করেছে এবং ১২৩ টাকায় কিনেছে। বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ১২৪ টাকা ৯০ পয়সা দরে বিক্রি ও ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে ডলার কিনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসীরা ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪২.২০ শতাংশ বেশি। গত বছরের আগস্টের প্রথম ১২ দিনে এসেছিল ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি মাসের বাকি ১৯ দিনে একই হারে রেমিট্যান্স এলে মাস শেষে তা প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা একক মাসে সর্বোচ্চ হবে। এর আগে গত মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এছাড়া চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ১ মাস ১২ দিনে মোট ৪৩৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩.৪ শতাংশ বেশি।
তবে খোলা বাজারে এই দর ১২৬-১২৭ টাকার মধ্যে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ দিন ৩০শে জুন টাকা ও ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা।
এক বছর আগে ২০২৫ সালের ৬ই অগাস্ট ছিল ১২১ টাকা ৯৪ পয়সা।
চাহিদা কম; সে কারণে ডলারের দর কমবে-এটাই স্বাভাবিক।
এখন পর্যন্ত এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্সে এসেছে গত মার্চে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার।
২০২৫ সালের অগাস্টের প্রথম ১২ দিনে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ (১.০৫ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল।
সূত্র: মানবজমিন






























