আর্থিক খাতের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আদায় বাড়ানোর লক্ষ্যে এবং মামলার সংখ্যা কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) আওতায় মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব প্রতিষ্ঠান একাধিক প্যানেল গঠন করে খেলাপি ঋণ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। বিনিময়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ের বিপরীতে একটি অংশ কমিশন হিসেবে পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এই মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং তাদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে একটি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। বৃহস্পতিবার এই নীতিমালা সার্কুলার আকারে জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন থেকে এই নীতিমালার আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেবে এবং তাদের কার্যক্রম তদারকি করবে।
নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এসব প্যানেলে কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকতে পারবে না। এছাড়া, মধ্যস্থতা সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যানেলে তালিকাভুক্ত হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক, ফাইন্যান্স কোম্পানি, আইন পেশা, হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা বা বিচারকার্যে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের কারণে খেলাপি ঋণ ভয়ানকভাবে বেড়ে যায়, যা ব্যাংকগুলোকে দুর্বল করে ফেলে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এখন থেকে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও কাজ করবে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ অনেক দেশে খেলাপি ঋণ আদায়ে এ ধরনের পদক্ষেপ রয়েছে। বাংলাদেশেও আগে সীমিত আকারে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে এবার নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এটিকে আইনি প্রক্রিয়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।
তালিকাভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আর্থিক খাতের গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকার করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান স্বার্থের সংঘাত গোপন করলে, গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে বা নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ বিধান লঙ্ঘন করলে বাংলাদেশ ব্যাংক কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে তাদের তালিকাভুক্তি স্থগিত করতে পারবে। এছাড়া গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা, অসদাচরণ বা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করলে এবং সুনাম ক্ষুণ্ন করলে প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাবহিভর্ভূত করার ক্ষমতাও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের থাকবে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তি স্থগিত বা বাতিল হলে চলমান কার্যক্রম অক্ষুণ্ন রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পারবে, যার মধ্যে অন্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে কার্যক্রম স্থানান্তরের নির্দেশনাও থাকতে পারে। এছাড়া মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছর ভিত্তিতে তাদের কার্যক্রমের প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাখিল করতে হবে।































