আর্থিক অপরাধ দমন এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত সম্পদ উদ্ধারে নিজেদের কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ন্যাশনাল অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং অ্যান্ড কমব্যাটিং দ্য ফাইন্যান্সিং অফ টেরোরিজম অ্যান্ড প্রলিফারেশন ফাইন্যান্সিং কমিটির জেনারেল সেক্রেটারিয়েটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে স্থানীয়ভাবে ৪.২৩ বিলিয়ন দিরহাম মূল্যের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত সম্পদের বিরুদ্ধে দেশটির কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পদের পরিমাণ বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২১ সালে এই অংকটি ছিল ৯৯০ মিলিয়ন দিরহাম। অর্থাৎ, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের মূল্য চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো পুরো ২০২৫ সাল জুড়ে আর্থিক অপরাধের বিভিন্ন মামলায় এই অভিযান পরিচালনা করেছে, যেখানে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন সম্পদগুলোকে চিহ্নিত ও জব্দ করা হয়েছে।
কমিটির মতে, আর্থিক অপরাধ দমনে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এটি অপরাধীদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ভোগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে। এ ধরনের সম্পদ উদ্ধারের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে প্রাপ্ত আর্থিক সুবিধা শনাক্ত, জব্দ এবং চূড়ান্তভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াটি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হয়েছে। এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধীদের অবৈধ মুনাফা ধরে রাখা বা তা থেকে উপকৃত হওয়া প্রতিরোধ করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত আর্থিক তদন্তের মান উন্নত করতে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সাথে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অপরাধলব্ধ অর্থ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের কৌশলগুলো আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশটির আর্থিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা রক্ষা এবং মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নসহ অন্যান্য আর্থিক অপরাধ দমনে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের অংশ।
সূত্র: Gulf Today






























