প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন সম্প্রতি এক অভাবনীয় পুনর্মিলনের কথা জানিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে চলা আইনি লড়াই ও তিক্ত বাক্য বিনিময়ের পর কোহেন দাবি করেছেন, তারা একে অপরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। গত ২০ আগস্ট কোহেনের রেডিও শো-তে ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়, যেখানে এই সম্পর্কের নতুন মোড় উন্মোচিত হয়।
নিজের সাবস্ট্যাক পোস্টে এই কথোপকথনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে কোহেন লিখেছেন, ‘কীবোর্ডের আড়াল থেকে পাথর নিক্ষেপ করার চেয়ে বিভাজন ভুলে হাত বাড়িয়ে দেওয়া অনেক বেশি সাহসের কাজ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুইজন মানুষ যারা বছরের পর বছর ধরে জনসমক্ষে যুদ্ধ করেছেন, আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে একে অপরকে আক্রমণ করেছেন, তারা কীভাবে আবার একসঙ্গে বসতে পারেন? এর উত্তরটি খুবই সহজ—আমরা একে অপরকে ক্ষমা করে দিয়েছি।’
২০ আগস্টের শো-তে কোহেন প্রায় ১৫ মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেন। সেখানে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান, চলমান ইরান যুদ্ধ এবং সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ হ্রাসের মতো প্রশাসনের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে কথা বলেন। কোহেন জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকারটির পূর্ণাঙ্গ অংশ ২৩ আগস্ট, রবিবার প্রচার করা হবে।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ট্রাম্প ও কোহেনের কয়েক দশকের সম্পর্ক নাটকীয়ভাবে ভেঙে পড়েছিল। কোহেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পাশাপাশি আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে কোহেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি আদালতে স্বীকার করেছিলেন যে, ট্রাম্পের ‘নির্দেশনায়’ ক্যারেন ম্যাকডুগাল ও স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মতো নারীদের চুপ রাখতে অবৈধ অর্থ লেনদেন করা হয়েছিল। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে ‘বর্ণবাদী’, ‘প্রতারক’ ও ‘ঠক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতির মামলায়ও কোহেন সাক্ষ্য দেন। সেই মামলায় ট্রাম্পকে ১৩০,০০০ ডলার অর্থ প্রদানের জন্য কোহেনকে দায়ী করা হয়েছিল এবং ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল। ট্রাম্প পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে কারাদণ্ড বা জরিমানা ছাড়াই সাজা দেওয়া হয়। এর আগে ট্রাম্প কোহেনকে ‘মিথ্যাবাদী’ ও ‘বাজে মানুষ’ বলে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন।
তবে পর্দার আড়ালে তাদের এই পুনর্মিলনের প্রচেষ্টা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। কোহেন জানিয়েছেন, গত এক বছরে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে তিনবার দেখা করেছেন। তিনি সাবস্ট্যাকে আরও লিখেছেন, ‘ইতিহাস যেন আমাদের ভবিষ্যতের মালিক না হয়, সেটিই ছিল আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।’ কোহেন স্পষ্ট করেন যে, পুনর্মিলন মানেই অতীত মুছে ফেলা নয়, বরং ইতিহাসকে নতুন অধ্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
এদিকে, এই পুনর্মিলনের ফলে কোহেন তার ২০১৮ সালের অপরাধের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে ক্ষমা বা ক্লিমেন্সি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে কোহেন পলিটিকোকে জানিয়েছেন, তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।




























