আধুনিক ফুটবলে এখন আর কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই প্রযুক্তি। মোহাম্মদ সালাহর মতো তারকা খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে বের করা, হ্যামস্ট্রিংয়ের মতো জটিল চোটের পূর্বাভাস দেওয়া কিংবা বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের শারীরিক বিকাশের গতিবিধি বিশ্লেষণ—সবকিছুতেই এখন যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। যদিও ফুটবলে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবুও ক্লাবগুলোর স্কাউটিং, চিকিৎসা এবং কোচিং স্টাফদের দীর্ঘদিনের কাজের চাপ কমিয়ে এটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।
খেলোয়াড় নিয়োগের ক্ষেত্রে মারকির মতো এআই প্ল্যাটফর্মগুলো এখন বড় ভূমিকা রাখছে। এই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা ডিন ব্রাখা জানান, সালাহর মতো খেলোয়াড় ক্লাব ছাড়লে তাঁর বিকল্প হিসেবে কাদের নেওয়া যেতে পারে, তার একটি তালিকা তৈরি করা এখন অনেক সহজ। ব্রাখার মতে, বিভিন্ন ডেটা প্ল্যাটফর্মে আলাদা করে তথ্য খোঁজার বদলে এই প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটির মতো অভিজ্ঞতা দেয়। মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট চাহিদার সঙ্গে মানানসই ৫ থেকে ১০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করে দেয় এটি। বার্সেলোনা এবং এমএলএসের শিকাগো ফায়ারসহ প্রিমিয়ার লিগের বেশ কিছু ক্লাব এরই মধ্যে এই প্রযুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
তবে এটি কোনো গেমের মতো নয়; বরং খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত সামর্থ্যের পাশাপাশি দলের কৌশলগত ব্যবস্থার সঙ্গে তিনি কতটা মানানসই, তা-ও যাচাই করা হয়। শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি ক্লাবের নিজস্ব নিয়োগ বিভাগের হাতেই থাকে।
চোট ব্যবস্থাপনায়ও এআইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। গত বছর এফসি সিনসিনাটির ম্যাচে ম্যাট মিয়াজগার চলাচলে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করেছিল এআই, যা খেলোয়াড়টির বদলি হওয়ার অনুরোধের পাঁচ মিনিট আগেই সংকেত দিয়েছিল। যদিও এটি চোট প্রতিরোধের কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, তবে স্প্রিংবক অ্যানালিটিকসের মতো প্রতিষ্ঠান এমআরআই স্ক্যানের দ্বিমাত্রিক ছবি বিশ্লেষণ করে পেশির ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেল তৈরি করছে। এর ফলে চিকিৎসকরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন, যা আগে সম্পন্ন করতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগত। স্প্রিংবকের অ্যানালিটিকস পরিচালক ম্যাট ব্রাউন জানান, এই প্রযুক্তি জটিল তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
বয়সভিত্তিক ফুটবলে কাভান সুলিভানের মতো তরুণদের শারীরিক বিকাশের পূর্বাভাস পেতে ‘ফিট: ম্যাচ’ নামের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চারটি ছবি তুলেই খেলোয়াড়ের উচ্চতা, শরীরের ভর এবং দুই হাতের প্রসারসহ বিভিন্ন শারীরিক পরিমাপ নেওয়া সম্ভব। হানিফ ব্রাউনের মতে, এই প্রযুক্তি পেশাদার ক্লাবের মূল্যায়নপ্রক্রিয়া ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে সম্পন্ন করতে পারে। এটি বিশেষ করে সেইসব খেলোয়াড়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা দেরিতে শারীরিকভাবে বিকশিত হয়। এই বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেরিতে বিকশিত হওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।
কোচিংয়ের ক্ষেত্রেও এআইয়ের প্রভাব বাড়ছে। সিয়াটল রেইনের প্রধান কোচ লরা হার্ভি ২০২৫ সালের অক্টোবরে কৌশল নির্ধারণে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। লিগের ১৪টি দলের মধ্যে দুটি দলের বিপক্ষে খেলার সময় এআই তাঁকে পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই কৌশল অবলম্বন করে সিয়াটল রেইন আগের বছরের চেয়ে আট ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। এছাড়া রবিন ফ্রেজারও সম্ভাব্য ম্যাচ আপে সুবিধা ও ফরমেশন নিয়ে পরীক্ষা করতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছেন।
পরিশেষে, ফুটবলে এআই মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠেনি। এটি কেবল তথ্য বিশ্লেষণ ও ধারণা প্রদানের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। খেলোয়াড় নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত করা, চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ কিংবা কোচের কৌশল বাস্তবায়নের মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এখনো মানুষের হাতেই ন্যস্ত। প্রযুক্তির এই ব্যবহার কেবল মাঠের বাইরের জটিলতাকে সহজ করে দিচ্ছে, যা ফুটবলের সামগ্রিক মানোন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মোহাম্মদ সালাহ লিভারপুল ছেড়ে গেছেন, তাঁর জায়গায় কে আসতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভান কি শারীরিকভাবে সমবয়সীদের চেয়ে এগিয়ে, নাকি পিছিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া একজন খেলোয়াড় কবে পুরোপুরি ফিট হয়ে মাঠে ফিরতে পারবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উত্তর খোঁজার প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিরাও আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্লাবগুলোর স্কাউট, চিকিৎসক, বিশ্লেষক ও কোচদের এ নিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুটবলে প্রযুক্তিটির ব্যবহার এখনো পুরোদমে চালু হয়নি, কিন্তু ক্রমেই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধরা যাক, লিভারপুলকে সালাহর বিকল্প খুঁজতে হবে।
সূত্র: প্রথম আলো




























