ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির শহর ক্রাইভি রিহ-তে রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দ্র হানঝা শুক্রবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হামলায় ১৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৩ জন শিশু রয়েছে। জেলেনস্কি এই ঘটনাকে 'ডাবল-ট্যাপ' হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে প্রথম দফার হামলার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দ্বিতীয় দফার ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এর আগে শুক্রবার ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৬৬ ও ৭৩ বছর বয়সী দুই নারী নিহত এবং আরও দুজন আহত হন বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক প্রধান ওলেহ সিনিয়েহুবভ। একই সন্ধ্যায় মাইকোলাইভ অঞ্চলে রাশিয়ার পৃথক হামলায় তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন বলে জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, গত রাতে রাশিয়া মোট ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ১০৭টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
চলতি গ্রীষ্মে বড় আকারের রুশ হামলা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মাত্র দুই দিন আগেই রাজধানী কিয়েভ এবং এর আশপাশের এলাকায় রুশ হামলায় ১৭ জন নিহত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে কিয়েভ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি, যেখানে অন্তত ৫৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২০২ জন আহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের কাছে থাকা মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া কিয়েভে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে।
পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। শুক্রবার রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় গাড়িতে থাকা একজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, পার্ম অঞ্চলে রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার এবং ভলগোগ্রাদ অঞ্চলে মারিনোভকা সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা গত রাতে ১৫টি অঞ্চল ও ক্রিমিয়া মিলিয়ে মোট ৩২৫টি ড্রোন এবং পরে আরও ২১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর উদ্দেশ্য হলো রুশ জনগণের মধ্যে যুদ্ধের প্রভাব অনুভব করানো এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শান্তি আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করা। তবে পুতিন এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনার ইঙ্গিত দেননি। যুদ্ধক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় উভয় পক্ষই এখন দীর্ঘপাল্লার ড্রোন হামলার ওপর বেশি নির্ভর করছে।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ক্রাইভি রিহ শহরটি বারবার হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের এপ্রিলে, যেখানে নয় শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছিলেন।
শুক্রবারের এই হামলার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই রাশিয়া রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল, যাতে ১৬ জন নিহত হন।































